আমাদের কখনও কখনও আক্ষেপ করতে হয়, কত বড় মানুষের শতবর্ষ চলে গেল, সেভাবে হলই না স্মরণ।‌ মান্না দে–র ক্ষেত্রে তা হয়নি। এমন নয় যে, শত শত অনুষ্ঠান হল। এমন নয় যে, বিস্তর হইচই হল। কিন্তু সন্দেহ নেই, পত্রপত্রিকায় অনেক লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তাঁকে দেখেছেন, তাঁকে দিয়ে নিজের সুরে গাইয়েছেন, সেই অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় মান্না দে–কে ধরে রাখলেন চিরকালের জন্য। অজয় চক্রবর্তী ছিলেন স্নেহধন্য, তাঁর আন্তরিক স্মৃতিচারণও থেকে গেল ভবিষ্যৎ কালের জন্য। আজকের প্রজন্মের শিল্পীরাও জানালেন, কেন মান্না দে অবিস্মরণীয়। তবে, আনুষ্ঠানিক ও মুদ্রিত স্মরণ–শ্রদ্ধার্ঘ্য যদি শতবর্ষে বিশেষভাবে প্রকাশিত না–ও হত, এই দুর্ধর্ষ শিল্পী ‘‌জীবিত’‌ থাকতেন!‌ আছেন। প্রণম্য কৃষ্ণচন্দ্র দে–র ভাইপো, শিষ্য। গানের গাঁথনিটা পোক্ত। ধ্রুপদী সঙ্গীতের তালিম নিয়ে, সেই শিক্ষাকে পাথেয় করে তিনি হয়ে উঠেছেন সর্বব্যাপী, যাঁকে বলতেই হবে বাংলার সর্বকালের সেরা ‘‌অলরাউন্ডার’,‌ গানের জগতে। মুম্বইয়ে লড়াই করে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। অনেক হিন্দি গান যখন সর্বভারতীয় জনপ্রিয়তা পেয়ে গেছে, তাঁর আবির্ভাব বাংলা গানে। এবং জয়যাত্রা। যখন যে–ভাষায় গাইতেন, মনে হত সেটাই তাঁর মাতৃভাষা। উচ্চারণ?‌ তুলনাহীন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত–ঘেঁষা গানে সফল, হালকা চালের গানে তুখোড়, প্রেম–বিরহের গানে দিগ্বিজয়ী। হিট গান কত?‌ গুনে শেষ করতে পারবেন না। যে–গানে চাই কমেডি, নাটকীয়তা, তিনি তুলনারহিত। গোবর গোহের আখড়ায় কুস্তি শিখেছেন, শক্তপোক্ত শরীর। ৮০ বছর বয়সেও টানা দু’‌ঘণ্টা গেয়েছেন, মোহিত করেছেন শ্রোতাদের। এমন শিল্পীকে আনুষ্ঠানিক স্মরণ না করলেও ‘‌জীবিত’‌ থাকবেন‌। আমাদের গানের ভুবনে তিনি একাই একশো। তাঁকে ভোলার সাধ্য কার?‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top