অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন রাজশেখর রেড্ডি, পরিচিত ওয়াইএসআর নামে। কপ্টার দুর্ঘটনায় তাঁর শোচনীয় মৃত্যুর সময় আলোড়ন রাজ্যে। পিতার প্রয়াণে শোকের মধ্যেই তরুণ জগন্মোহন চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী হতে। অনেক কংগ্রেস কর্মী সেই দাবিতে মিছিলও করেছিলেন। হাইকমান্ড সাড়া দেয়নি। তারপর জগন চাইলেন ওয়াইএসআর যাত্রা করতে, প্রয়াত নেতার স্মরণে। কংগ্রেস অনুমতি দিল না। অন্ধ্রের কংগ্রেস কর্মীরা বলেন, অনুমতি দিলে ভালই হত, প্রয়াত জনপ্রিয় নেতার স্মরণ–‌যাত্রায় দলের প্রভাব বাড়ত। জগনও আলাদা দল গড়ার পথে যেতেন না। জগনের ভাবমূর্তি যে উজ্জ্বল ছিল, তা নয়। তেজ ছিল, কিন্তু সঙ্গে ছিল এবং এখনও আছে হিসেব বহির্ভূত সম্পত্তি ও বিতর্কিত ব্যবসার মামলা। চমৎকার বক্তা। কংগ্রেসের একাংশ তো বটেই, বাইরে থেকেও অনেক তরুণকে জড়ো করতে পেরেছেন রাজশেখর–‌পুত্র। তাঁর রাগ কংগ্রেসের ওপর, কিন্তু তেলুগু দেশম নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু পাশে নেওয়ার চেষ্টা করেননি জগনকে। কারণ, জগন্মোহনের একমাত্র লক্ষ্য মুখ্যমন্ত্রী হওয়া। এবার জানাই ছিল, ওয়াইএসআর কংগ্রেস একতরফা জিতবে। তার ওপর নির্বাচনী প্রচারের সময়ও চন্দ্রবাবু ব্যস্ত থাকলেন সর্বভারতীয় বৃত্তে। বিধানসভায় ১৭৫–‌এর মধ্যে ১৫১ পেলেন জগন। লোকসভায় ২৫–‌এর মধ্যে ২৩। সরকারে এসে প্রথম সিদ্ধান্ত কী?‌ বলে দিলেন, মন্ত্রীরা থাকবেন আড়াই বছরের জন্য। ২৫ জন। পরের আড়াই বছর অন্য ২৫। তিনি অনেককে সুযোগ দিতে চান। যদি কোনও মন্ত্রী অসাধারণ কাজ করেন, দু’‌একটা ব্যতিক্রম হতে পারে। অন্তত ৯৫ শতাংশ মন্ত্রী পাল্টানো হবে। এবং উপমুখ্যমন্ত্রী থাকবেন ৫ জন!‌ দেশে কোনও রাজ্যে হয়নি। যদি এক বছরের মেয়াদে মন্ত্রী রাখতেন, ১২৫ জন মন্ত্রী হতে পারতেন। স্পিকার–‌সহ নানা পদে বাকিরা। প্রশ্ন, জগন যখন রাজ্যে বা দেশে থাকবেন না, কে অস্থায়ী দায়িত্বে?‌ লটারি?‌‌‌‌‌

ছবি: দ্য ডেক্কান হেরাল্ড

জনপ্রিয়

Back To Top