৬ আগস্ট ২০১৯। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে দাঁড়িয়ে বলছিলেন, ‘‌আকসাই চীন আমাদের, ফিরিয়ে নেবই, নেবই।’‌ নরেন্দ্র মোদি কী ভাবলেন, চীনের কানে কথাটা উঠবে না?‌ আসলে উগ্র জাতীয়তাবাদের নামে ভোট কুড়োতে গিয়ে উস্‌কানি দেওয়ার কাজটা মোদিরাই করেছেন। তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা যে কেউ, যে কোনও বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন বিষয় নিয়ে কথা বলেন যা নিতান্তই প্রতিরক্ষামন্ত্রী বা বিদেশমন্ত্রীর এক্তিয়ারে পড়ে। রেলমন্ত্রী কৃষি নিয়ে বলেন, সড়ক পরিবহণমন্ত্রী বলেন অর্থনীতি নিয়ে!‌ চীনে ভারতের দূতাবাস এতদিন কী করছিল তা আমরা জানি না, চীনের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়ে কোনও আপত্তি নথিভুক্ত করা হয়েছে বলেও শুনিনি। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর মুখ খোলেননি, ২০ জন সৈনিকের মৃত্যু এতই কম গুরুত্বপূর্ণ যে বিবৃতি দিচ্ছেন তাঁর দপ্তরের আমলা অনুরাগ শ্রীবাস্তব!‌ প্রধানমন্ত্রী কখন যে কী বলেন তার ঠিক নেই, কখনও চীনের কোম্পানির জন্য দরজা হাট করে দেন, তারপরেই আত্মনির্ভরতার বুলি আওড়ান!‌ ভারতে যত সফল ডিজিটাল স্টার্ট আপ আছে তার পিছনে চীনের বিপুল লগ্নি। অ্যাপ ক্যাব, ডিজিটাল পেমেন্টস, ফুড ডেলিভারি সর্বত্র চীনের হাত। এক বছরের মধ্যে স্টার্ট আপে চীনের লগ্নি দ্বিগুণ হয়ে ৩.‌৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আরও ৬.‌২ বিলিয়ন ডলার চীনা লগ্নি আছে অন্যান্য ক্ষেত্রে। শুধু নিজের অচল টিভি ব্যালকনি থেকে ছুঁড়ে ফেলে ভাঙলে চীনের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভাঙা যাবে না। মন্দিরে যে মূর্তি সাজিয়ে পুজো করছেন, যে আলোর মালায় মন্দির সাজাচ্ছেন তা–‌ও চীনেরই তৈরি। আকসাই চীনের কথা বলে গলা ফাটাবার আগে এদিকে নজর দিলে ভাল করতেন। চীন কেন, কোনও দেশেরই স্বৈরাচারের সমর্থন করা যায় না। শুধু ভারত নয়, ফ্রান্স, কানাডা, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও কূটনৈতিক স্তরে রীতিমতো তিক্ততা সৃষ্টি করে ফেলেছে। দুঃখ একটাই, আমাদের কূটনৈতিক বা বিদেশনীতি বলে কিছু আর অবশিষ্ট নেই, সবই উগ্রচণ্ডা নীতি।‌

জনপ্রিয়

Back To Top