পরীক্ষার খাতা দেখা একটি অতি স্পর্শকাতর বিষয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরীক্ষার্থীর মন ভরে না। যারা পাশ করতে পারে না তাদের যেমন সন্দেহ থাকে, যারা ‘‌প্রথম’, ‌‘‌দ্বিতীয়’‌ হয়, সন্দেহ থাকে তাদেরও। কেউ ভাবে, খাতা দেখা ঠিকমতো হলে পাশ করে যেতাম, কেউ ভাবে ‘‌প্রথম’ হলেও নম্বর আরও বাড়ত। বিজ্ঞান এবং কলা বিভাগের খাতা দেখা নিয়ে দ্বন্দ্ব তো চিরকালীন। অঙ্কে একশো পেলে সমস্যা নেই, সাহিত্যে বেশি নম্বর পেলে ‘‌গেল গেল’‌ রব। কম পেলেও সংশয়। বিজ্ঞানে উত্তর ঠিক হলে নম্বর মেলে, কলা বিভাগে উত্তর ঠিক–‌ভুলের ওপর সবটা নির্ভর করে না। উত্তরের গুণগত মান বিচার করতে হয়। পরীক্ষার খাতা দেখা নির্ভর করে প্রশ্নের ওপর। যখন প্রশ্ন হয় ‘‌টিক’‌ দেওয়ার ধঁাচে, সমস্যা থাকে না। কিন্তু প্রশ্ন যখন পরীক্ষার্থীর নিজস্ব চিন্তা ভাবনা, সিলেবাসের বাইরের পড়াশোনা, জ্ঞান লাভের প্রগাঢ় ইচ্ছেকে জানতে চায়, গোল বাধে তখনই। কোন পরীক্ষকের কোন উত্তর ভাল লাগবে?‌ মনে রাখতে হবে, পরীক্ষক কোনও মেশিন নন, ভালমন্দ লাগা তাঁর বিশ্বাস, তাঁর মনের ওপরও নির্ভর করে। সেটা কতটা ঠিক তাও বিচার্য বিষয়। একজন পরীক্ষার্থীর কেরিয়ার একজন পরীক্ষকের ব্যক্তিগত অভিরুচির ওপর কতটা নির্ভরশীল হওয়া উচিত সেটাও ভাবা দরকার। পুনর্মূল্যায়নের পর নম্বরের হেরফের যদি বাড়তে থাকে তাহলে পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে ভাবতে হয় বৈকি। পরীক্ষকের চাপও কমানো দরকার। গোটা বিষয়টা নিয়েই চর্চা চলুক। তবে এর মধ্যে রাজ্য সরকারের শিক্ষাদপ্তর একটি জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষা সংসদ এবার থেকে পরীক্ষার্থীদের খাতা দেখবার পদ্ধতিকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। বিনা খরচে নিজের খাতা দেখবার সুযোগ অনেক সংশয় দূর করবে। পরীক্ষকরাও সতর্ক হবেন। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top