দিলীপ ঘোষ বলেন, বঙ্গে রামরাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি ‘‌একাই যথেষ্ট’‌। নিজস্ব উচ্চারণে যা বলেন, তার সঙ্গে বঙ্গ সংস্কৃতির সম্পর্ক অবশ্য ক্ষীণ। অতি ক্ষীণ। একজন নামী নেতা হিসেবে তঁার দায়িত্বজ্ঞান অভাবনীয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদী ছাত্রীদের সম্পর্কে যে–‌ভাষা ব্যবহার করেছিলেন, তাতে বঙ্গবাসীর মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছিল। তিনি অবশ্য এজন্য গর্বিত। দুই নোবেলজয়ী বঙ্গসন্তান, অমর্ত্য সেন এবং অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি সম্পর্কে তঁার উক্তি শুনে শিউরে উঠতে হয়েছিল। দিলীপ ঘোষ গর্বিত। বলছেন, বেশ করেছি, আরও বলব। অমর্ত্য বা অভিজিতের লেখার একটা লাইনও পড়েছেন?‌ না, এমন অপপ্রচার কেউ করতে পারবে না!‌ বলেন, ‘‌আমি বুকে পা দিয়ে রাজনীতি করি এবং করব।’ প্রতিপক্ষের, ধর্মনিরপেক্ষদের ‘‌বুকে পা’‌, এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি বাংলায় পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা হয়, বাংলার যঁারা গর্ব, তঁাদের সম্পর্কে কতটুকু জানেন?‌ রবীন্দ্রনাথের একটা কবিতারও চার লাইন বলতে পারবেন?‌ বঙ্কিমচন্দ্র নিয়ে হঠাৎ মাতামাতি, একটা উপন্যাসও কি পড়েছেন?‌ কথাবার্তায় তার নমুনা পাইনি। সত্যজিৎ রায়ের ক’‌টা ছবি দেখেছেন?‌ রবিশঙ্কর, সত্যজিতের শতবর্ষ গেল, একটা লাইনও বলে উঠতে পারেননি শ্রদ্ধা জানিয়ে। ক্ষুদিরাম, জগদীশচন্দ্র, প্রফুল্লচন্দ্র সম্পর্কে জানেন কি বঙ্গপ্রেমী নেতা?‌ সম্প্রতি, কিশোর কুমারের জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানিয়ে টুইট করলেন, সঙ্গে ‘‌আনন্দ’‌ ছবির বিখ্যাত গান, যা আরেক বঙ্গসন্তানের গাওয়া। মান্না দে। বিদ্যাসাগরের লেখা ‘‌সহজ পাঠ’‌, শুনেছি তঁার মুখে। বঙ্গপ্রেমী!‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top