সঙ্ঘ পরিবারের পরম শ্রদ্ধেয় গোলওয়ালকরের লেখা পড়লে, কোনও সংশয়ই থাকবে না, আরএসএস মানে কী। সেই বক্তব্যেই অনুপ্রাণিত বহু কর্মী। যাঁরা কোনও সংগঠনে নেই, তাঁরা হয়তো পড়েননি। একবার পড়ে দেখলেই বুঝবেন, কী সাঙ্ঘাতিক। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি নাথুরাম গডসে খুন করে গান্ধীজিকে। আরএসএস কত বিপজ্জনক, বুঝবেন অনেকে। তাঁদের মধ্যে একজন, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যাঁকে নিয়ে এখন প্রবল প্রচার বিজেপি–‌র। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়েও বলেন, নেহরুর জায়গায় প্যাটেল প্রধানমন্ত্রী হলে, ভারত ভাগ হত না। স্ট্যাচু অফ লিবার্টি‌–র চেয়ে দেড়গুণ উঁচু প্যাটেল–‌মূর্তি নির্মিত হচ্ছে গুজরাটে। সেই প্যাটেলের নির্দেশেই নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিল আরএসএস। অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আরএসএস ঘোষণা করে, রাজনীতিতে থাকবে না, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন হয়েই থাকবে। আরএসএস প্রথমে জনসঙ্ঘ, পরে বিজেপি–‌র নিশ্চিত অভিভাবক। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কারা গুরুত্ব পাবেন, কোন রাজ্যে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, কার্যত ঠিক করে দেন সঙ্ঘ নেতারাই। সঙ্ঘ নেতাদের কাছে জবাবদিহি করতে হয় মন্ত্রীদের। আরএসএস বেছে বেছে লোক পাঠায় রাজনৈতিক শাখা বিজেপি–‌তে। এভাবেই এসেছেন নরেন্দ্র মোদি। সম্প্রতিও দেখা গেছে, হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড ও উত্তরপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী বেছে দিয়েছে সঙ্ঘই। সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত বললেন, যে–‌কোনও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে ৬–‌৭ মাস সময় লাগবে সেনাবাহিনীর। আরএসএস তৈরি, তিনদিনেই ‘‌যুদ্ধে’‌ নেমে পড়তে পারে, কারণ কর্মীরা উপযুক্ত, প্রশিক্ষিত। অস্ত্রচালনায় এত দক্ষ?‌ যুদ্ধে বিশারদ?‌ সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনে কেন এই প্রস্তুতি?‌ সেনাবাহিনীকে হেয়ই তো করলেন ভাগবত। এঁদেরই কুম্ভীরাশ্রু প্রতিনিয়ত ঝরে শহিদ জওয়ানদের জন্য।‌ নিজেদের কী ভাবছে, কীভাবে ‘‌তৈরি’‌ করছে আরএসএস, ভাগবতের এ কথাই প্রমাণ করে। রাজনীতিতে নেই?‌ এর চেয়ে বড় মিথ্যা খুঁজলেও পাওয়া যাবে না।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top