‘‌দ্যলেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’‌ ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্ম–‌দ্বিশতবর্ষ এবার। ক্রিমিয়া যুদ্ধের সময়ে রাতে মোমবাতি হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন হাসপাতালে, গুরুতর অসুস্থ ও আহতদের কাছে পৌঁছে যেত সেবার স্পর্শ। পরে তিনি স্বাস্থ্য–‌সেবা নিয়ে চমৎকার বই লিখেছেন। আজও, নার্সদের শপথ নিতে হয় তঁার নামে। জন্ম–‌দ্বিশতবর্ষে তঁার স্মৃতি যেন দ্বিগুণ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠল। ভয়ঙ্কর ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে চিকিৎসকরা আছেন, পাশে নার্সরা। গোটা পৃথিবী থেকেই আসছে অনেক দৃষ্টান্ত, পড়লে ও শুনলে শ্রদ্ধায় মন ভরে যায়। ডাঃ অভিজিৎ তরফদার এক নিবন্ধে সাম্প্রতিক মর্মস্পর্শী বর্ণনা দিয়েছেন। টানা আটঘণ্টা দক্ষতা ও মমতা দিয়ে সেবা। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় মেরুদণ্ড হয়ে ওঠা। অনেকটা সময় হাসপাতালে ও পথে। বাড়ি ফিরেই আহার ও বিশ্রাম নয়। করতে হচ্ছে রান্না, সাংসারিক কাজ, সন্তানের দেখভাল। আমরা কতটা কৃতজ্ঞ থাকছি?‌ রানাঘাটের গ্রামে মা–‌বাবাকে দেখতে একদিন গিয়েছিলেন এক নার্স। প্রতিবেশীরা বলে দিলেন, থাকা হবে না, ফিরে যান। সরকার ব্যবস্থা করল। কলকাতার কয়েকটি ক্ষেত্রে একই ব্যাপার। অসুখ ছড়াতে পারে নার্সরা থাকলে, সুতরাং প্রবেশ নিষেধ। পুলিশের সক্রিয়তায় এবং কিছু প্রতিবেশীর মানবিকতায় থাকা গেল। কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে কাজ করেন মণিপুরের ৩০০০ নার্স। অক্লান্ত, হাসিমুখ। ৩০০ জন ফিরে গেলেন।‌ শুধুই ঘরের টানে?‌ না। পথেঘাটে ওঁদের ‘‌চীনা’‌ বলে আক্রমণ, ‘‌চিঙ্কি’‌ বলে ঠাট্টা। বাড়িওয়ালার নির্দেশ ঘর ছাড়ার। একদিন একদল যুবক বাইকে চেপে এসে, আস্তানায় ফেরার পথে মণিপুরি নার্সদের গায়ে থুতু ছিটিয়ে চলে গেলেন। কলকাতা পাল্টে গেল?‌   ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top