এক জনসভায় বিজেপি–‌র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘‌আমরা দেখিয়ে দেব কাকে বলে মানবিক সরকার।’‌ বোঝা যাচ্ছে, দিলীপবাবুর মতে কাকে বলে মানবিক সরকার। বললেন, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে উত্তরপ্রদেশ এবং অসম সরকার। গুলি করে মেরেছে। কুকুরের মতো মারা উচিত। সন্দেহ নেই, দিলীপবাবুরা মানবিক আচরণ করেন, করে থাকেন। বললেন, দেশদ্রোহীদের আখড়া বাংলা। নিজের রাজ্যকে দেশদ্রোহীদের আখড়া বলা নিশ্চয় মানবিক!‌ ক্ষুদিরাম–‌নেতাজি–‌মাতঙ্গিনী হাজরার বাংলাকে দেশদ্রোহীদের গড় বলা নিশ্চয় ভাল, মানবিক! দেশে যা হচ্ছে, এত বিক্ষোভ, মারতে হবে। বলেছেন। মানবিক বিজেপি–‌র বিরুদ্ধে যারা বিক্ষোভ করবে, কোনওরকম বাধা দেবে, এমন মার দেওয়া দরকার যে, লাশ গুনতে হবে। বলেছেন। মানবিক!‌ শুধু দিলীপ ঘোষ কেন, দলের নানা মাপের নেতারা কুৎসিত কথা বলে চলেছেন। কারণ, ওঁদের মধ্যে আছে আদর্শ মানবিকতা। মানবিক আচরণ কাকে বলে, ওঁদের দেখে, ওঁদের কথা শুনে বুঝতে হয়। উল্টোদিকের কথাও বলি। পার্ক সার্কাস, শিলিগুড়ি, বারাসত— তিন জায়গাতে মমতা ব্যানার্জির পদযাত্রায় ঢুকে পড়েছিল অ্যাম্বুল্যান্স। মমতা নিজে তৎপর হলেন, যাতে অ্যাম্বুল্যান্স গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারে। শিলিগুড়িতে মিছিলে ভিড়ের চাপে এক মহিলা পড়ে গিয়েছিলেন। মমতা নিজে সেই মহিলাকে তোলেন, শুশ্রূষার ব্যবস্থা করেন। দিলীপ ঘোষের মতে, নিশ্চয় মানবিক নয়। কৃষ্ণনগরে সভা করছিলেন বিজেপি–‌র রাজ্য সভাপতি। একটি অ্যাম্বুল্যান্স এসে পড়ে। তিনি বললেন, যেন ঢুকতে না পারে, যাক ঘুরে অন্য পথ দিয়ে। ঘণ্টাখানেক দেরি হল। তিনি বললেন, ফাঁকা অ্যাম্বুল্যান্স পাঠিয়েছিল তৃণমূল, যাতে সভাতে বিঘ্ন ঘটানো যায়। ঘটনা, অ্যাম্বুল্যান্সে ছিলেন এক প্রসূতি, নিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁর মা। দিলীপবাবুর আচরণকে কী বলবেন?‌ মানবিক!‌ ‌

জনপ্রিয়

Back To Top