দুর্নীতি নির্মূল করার গালভরা বাণী আমরা পাঁচ বছর ধরেই শুনছি। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্র সরকার–‌বিরোধী নেতাদের জেলে ভরে ফেলেই দায় সেরে ফেলছে। যেন চিদম্বরমরা জেলে থাকলেই ভারত ‘‌স্বচ্ছ’‌ হয়ে যাবে!‌ ঘটনা এই যে মূল জায়গায় হাতই দেননি মোদি, আর তাই একটার পর একটা ব্যাঙ্ক ডুবে যাচ্ছে। পাঞ্জাব অ্যান্ড মহারাষ্ট্র কো–‌অপারেটিভ ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হয়েই গেছে, ঘোষণাটুকুই যা বাকি। এই ব্যাঙ্কের মোট তহবিল ১১,৫০০ কোটি টাকার। এই টাকার ৮,৫০০ কোটিই এইচডিআইএল নামে এক কোম্পানিকে ঋণ দেওয়া হয়েছে, যা তারা শোধ করেনি। এই ঋণ দেওয়া হয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সব নির্দেশিকা উপেক্ষা করেই। এই বিপুল পরিমাণ অনুৎপাদক সম্পদ উদ্ধার হবে না বলেই ধরে নিয়েছে সরকার, তাই গ্রাহকদের টাকা তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সমস্যা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। লক্ষ্মীবিলাস ব্যাঙ্কের অবস্থাও তথৈবচ। ইন্ডিয়া বুলস–‌এর শেয়ার কেলেঙ্কারি অন্তত ১০ হাজার কোটির। এবার আরও বড় কেলেঙ্কারি কর্মচারী ভবিষ্যনিধির তহবিল নয়ছয় নিয়ে। ১১ লক্ষ কোটির তহবিলের টাকা এমন সব জায়গায় লগ্নি করা হয়েছে যার বাজারদর প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। অডিট হোক। দোষীদের খুঁজে বের করা হোক। সাধারণ প্রশ্ন, বিরোধী দলের নেতাদের গ্রেপ্তার করতে যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে তার এক দশমাংশ এই সব কেলেঙ্কারির ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে না কেন?‌ শাসক দলের নেতাদের নাম বেরিয়ে আসার আশঙ্কায়?‌ সম্ভবত তাই। আসলে যতটুকু দেখা যাচ্ছে, ভারতের অর্থনীতির অবস্থা তার থেকেও খারাপ। বৃদ্ধির হার আরও কমবে, রপ্তানি তলানিতে, শ্রমিক শ্রেণির হাতে কাজ নেই, কৃষকের উৎপাদনের দাম নেই, কর্মসংস্থানের কোনও পথ নেই। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে আর কতদিন চলবে?‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top