বিকল্প ব্যবস্থা তো কথার কথা নয়। বড় বিপর্যয় ঘটলে, দ্রুত কিছু বিকল্প ব্যবস্থা করতেই হয়। মাঝেরহাট সেতুর উদ্বোধন হয়েছিল ৫৪ বছর আগে। কেন ভেঙে পড়ল, তার পাঁচরকম কারণ শোনা যাচ্ছে। তৈরি হওয়ার সময়ের নথিপত্র সব পাওয়াও মুশকিল। সেতুর জীবনকাল অনন্ত হতে পারে না। হাওড়া ব্রিজ পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ। ৭৫ বছর হয়ে গেছে। ১৫–‌২০ বছর পর কিন্তু ভাবতেই হবে, কী করা যায়। রবীন্দ্র সেতুর (‌হাওড়া ব্রিজ)‌ বিকল্প বিদ্যাসাগর সেতু (‌দ্বিতীয় হুগলি ব্রিজ)‌ চালু হওয়ায় নিশ্চয় সুবিধা পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু বেড়েছে গাড়ির সংখ্যা। হাওড়া ব্রিজ সংস্কারের জন্য যদি কখনও এক বছরও বন্ধ রাখতে হয়, সামলানো সহজ হবে না। ঢাকুরিয়া ও টালিগঞ্জ সেতুরও বয়স ৫৪ হয়ে গেছে। কোনও বিপর্যয় ঘটলে, লক্ষ লক্ষ মানুষ যাতায়াতের সমস্যায় জেরবার হবেন। মাঝেরহাট সেতুর ক্ষতি হয়েছে পাশেই মেট্রো রেলের চলতে–‌থাকা কাজের জন্য, কম্পনে, কথাটা উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। দেখভালের কাজে কোনও ত্রুটি ছিল কি না, কারও গাফিলতি আছে কি না, চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি। কেন হল, অবশ্যই জানতে হবে। কিন্তু তার আগে দুটো কথা। এক, উদ্ধারকাজ, যা শেষ হয়েছে। প্রাণহানির সংখ্যা ৩, অনেক বেশি হতে পারত। দুই, বিকল্প ব্যবস্থা। স্থায়ী বিকল্পের কথা তো ভাবতেই হবে। কিন্তু আপাতত কী হবে। সেতু সারাই বা পুনর্নির্মাণ যা–‌ই হোক, এক থেকে দুই বছর সময় লাগবে। এখন কী হবে?‌ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কাজে নেমেছে পুলিস। কারও কারও নাকি যাতায়াতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে না। বেশিরভাগ মানুষের অসুবিধাটা প্রবল। কলকাতা পুলিস ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিকল্প রুট জানিয়ে দেয়। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আরও মসৃণ করার চেষ্টা হয়। কিছুটা সফল। পুজোর সময়ে বিপুল ভিড় সত্ত্বেও শহর চালু রাখার ক্ষেত্রে সফল কলকাতা পুলিস। মাঝেরহাটেও কিছুটা সফল। কলকাতা পুলিসের ট্র‌্যাফিক বিভাগ দক্ষ। একবার ওদের ধন্যবাদ জানানো উচিত নয়?‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top