বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মা ইতালির টাসকানি প্রদেশে আঙুর খেতে ঘেরা এক হেরিটেজ–‌রিসর্টকে বেছেছিলেন বিয়ের জায়গা হিসেবে। ছিলেন শুধু দু’‌জনের আত্মীয়স্বজন ও ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠরা। অতিথিদের নিয়ে বিশেষ আসর দিল্লি ও মুম্বইয়ে। স্বাভাবিক বোধসম্পন্ন কোনও মানুষের প্রশ্ন তোলার কথা নয়, কেন নিজেদের দেশ ভারত ছেড়ে বিদেশে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন বিখ্যাত দুই ভারতীয়। কিন্তু ওঁরা তো স্বাভাবিক বোধসম্পন্ন নন। ওঁরা মানে, উগ্র হিন্দুত্বের ধ্বজাধারী লোকেরা। প্রায় প্রতিদিন ওঁদের কারও না কারও মুখে উদ্ভট মন্তব্য শোনা যায়। মধ্যপ্রদেশের বিজেপি বিধায়ক পান্নালাল শাক্য বিরাট–‌অনুষ্কার ওপর ক্ষিপ্ত। বললেন, ‘‌ছি ছি। ভারতবাসী হয়ে ওঁরা কিনা বিয়ে করতে গেলেন ইতালিতে।‌ বোঝাই যাচ্ছে, ওঁরা রাষ্ট্রদ্রোহী, দেশদ্রোহী!‌’‌ অভিনেত্রী রানি মুখার্জির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, ‘‌কে কোথায় বিয়ের অনুষ্ঠান করবে, সেটা অন্যরা ঠিক করে দেবে?‌ বিরাট কোহলি যখন বিদেশে খেলেন, অনুষ্কা শর্মা যখন বিদেশে শুটিং করেন, কোনও কথা ওঠে না তো। অনেক ভারতীয় বিদেশে কাজ করেন, অনেক ভারতীয় বিদেশে লেখাপড়া করেন, কথা ওঠে না তো।’‌ প্রযোজক–‌পরিচালক সুজিত সরকারের টিপ্পনী, ‘‌এরপর যখন বিদেশের মাটিতে প্রথম ছয়টা মারবেন দেশদ্রোহী কোহলি, সেটা ওই বিধায়কের মুখে এসে পড়বে, উপযুক্ত জবাব।’‌ বিরাট ক্রিকেট খেলে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন, অনুষ্কা হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেননি, কাউকে ঠকাননি। নিজেদের খরচে, কাউকে বিরক্ত না করে ওঁরা পছন্দসই জায়গা বেছে নিয়েছেন। এমন উদ্ভট মন্তব্য সাধারণত করে থাকেন সংঘ পরিবারের লোকেরা। এঁদের মধ্যে দুটি ভাগ আছে। একাংশ নিজেদের কু–‌ভাবনা চেপে রাখতে পারে। অন্য অংশ বলে ফেলে। পান্নালাল শাক্য দ্বিতীয় অংশের উজ্জ্বল প্রতিনিধি।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top