মানুষ আজীবন শেখে। জ্ঞানী ব্যক্তিরা বলেন, এখনও শিখছি, এখনও ছাত্র। আমরা সেই অর্থে ‘‌চিরস্থায়ী’‌ ছাত্র কথাটা ব্যবহার করছি না। বাংলার অনেক কলেজে গন্ডগোল হচ্ছিল, তার বিস্তারিত খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে, শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির উদ্যোগে পরিস্থিতি অনেকটা পাল্টে গেছে। এখন তেমন খবরের সংখ্যা নিতান্তই কম। কোথাও কিছু হলেই শিক্ষামন্ত্রী নিজে তৎপর হয়ে সামাল দিচ্ছেন। কড়া বার্তাও দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এরকম না হয়। কলকাতার চারুচন্দ্র কলেজ। এখানে কিন্তু ঝামেলা মিটেও মিটছে না। সাম্প্রতিক ঘটনার দিকে তাকান। কলেজের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার একজনকে সরিয়ে দেন কলেজ কর্তৃপক্ষ, অভিযোগ থাকায়। ঝাঁপিয়ে পড়ল কিছু ছাত্রছাত্রী, চলবে না, মানব না। বিষয়টা বড় কথা নয়। বিক্ষোভের ধরনটা মারাত্মক। অধ্যক্ষকে শুধু ঘেরাও নয়, গালিগালাজ। তাঁর ঘরে ঢুকে হুমকি। ভাঙচুর। অধ্যাপকরা (‌অনেক অশিক্ষক কর্মীও)‌ এই হামলা হজম করতে পারলেন না। তখন ওঁদেরও আক্রান্ত হতে হল। এক শিক্ষক মার খেলেন। অধ্যাপক সংগঠনের সম্পাদক বিমলশংকর নন্দর হাত ধরে টানাহ্যাঁচড়া করা হল। টেলিভিশনেই দেখলাম, আক্রমণাত্মক ছাত্রনেতাদের হুমকি। নতুন ব্যবস্থায় কলেজের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা নবীনবরণ উৎসবে ছাত্র সংসদের কর্তারা ইচ্ছেমতো টাকা পাচ্ছেন না।  সেই ক্ষোভ থেকেই সুযোগ পেলেই অধ্যক্ষকে নিগ্রহ করছেন। উচিত কথা বলে আক্রান্ত হচ্ছেন কিছু শিক্ষকও। সাম্প্রতিক হামলার জেরে, অধ্যাপকরা রাতে অবস্থানে বসে পড়েন। কলেজ আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ। খবরটা কানে যেতেই শিক্ষামন্ত্রী সক্রিয় হলেন। পরিষ্কার বলে দিলেন, হামলা বরদাস্ত করা হবে না। শিক্ষকরাও অবস্থানে বসে ঠিক করছেন না। কলেজ বন্ধ রাখা চলবে না। বিজ্ঞপ্তি তুলে নিয়ে সেই দিনই জানানো হল, কলেজ চলবে। দুটো কথা বলার আছে। এক, হামলাকারীদের অনেকেই অনেক বছর ধরে কলেজে। কী করে কলেজ ক্যাম্পাসে?‌ এঁরা ‘‌চিরস্থায়ী ছাত্র’‌ নাকি?‌ দুই, শিক্ষামন্ত্রীর তৎপরতা অভিনন্দনযোগ্য। এভাবেই কাজ করতে হয়।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top