মাঠের মধ্যে, খেলার উত্তেজনায় কখনও কখনও অসম্মান দেখানোর ঘটনা ঘটে। পরে কথা বলেন, মিটিয়ে নেন খেলোয়াড়রা। কিন্তু কলঙ্কের দাগ লালনের চেষ্টায় গভীর ক্ষত তৈরি হতে বাধ্য। শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী হঠাৎ বলে দিলেন, ২০১১ সালে বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটা জিততে পারত তঁার দেশের টিম, ইচ্ছা করে ম্যাচ ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। ম্যাচটা আমরা দেখেছি। স্মৃতি স্পষ্ট। প্রথমে ব্যাট করে স্কোরবোর্ডে বড় রান শ্রীলঙ্কার, ২৭৬। বিশ্বকাপ ফাইনাল মানে প্রবল চাপের ম্যাচ। ২৭৬ তাড়া করা সহজ নয়। অনবদ্য সেঞ্চুরি করেছিলেন মাহেলা জয়বর্ধনে। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর অভিযোগে ক্ষুব্ধ জয়বর্ধনে এবং কুমার সাঙ্গাকারা। বিশ্ব ক্রিকেটে সম্মানিত দুজন। অধিনায়ক ছিলেন সাঙ্গাকারা। তঁাকে চেয়ারম্যান পদে এনেছে এমসিসি। বিরল সম্মান। দুজনই কড়া বিবৃতি দিলেন, এমন জঘন্য কথা যিনি বললেন, তিনি তো ক্রীড়ামন্ত্রী ছিলেন, তখন কিছু বলেননি কেন?‌ ৯ বছর পর এত অসম্মানজনক কথা, হোক তদন্ত, ক্ষমা চাইতে হবে দায়িত্বজ্ঞানহীন রাজনীতিককে। ২৭৬ রান তাড়া করতে গিয়ে, শুরুতেই আউট হয়ে যান শচীন তেন্ডুলকার ও বীরেন্দ্র শেহবাগ, ভারতের দুই সেরা ব্যাটসম্যান। শ্রীলঙ্কা জয়ের গন্ধ পাচ্ছিল। একদিকে খেলে যাচ্ছিলেন গৌতম গম্ভীর, করেন ৯৭। দুর্দান্ত ইনিংস। চার নম্বরে নামার কথা ফর্মে–‌থাকা যুবরাজ সিংয়ের। কোচ গ্যারি কারস্টেনের সঙ্গে কথা বলে নামলেন সাহসী মহেন্দ্র সিং ধোনি। করলেন অপরাজিত ৯১। ম্যাচ শেষ করে ট্রফি আনলেন ৬ মেরে। তারপরই হরভজন–‌ইউসুফ পাঠান–‌বিরাট কোহলিরা কঁাধে তুলে নিলেন শচীনকে। বিশ্ব ক্রিকেটের অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। ভারতীয় ক্রিকেটারদেরও অসম্মানিত করার চেষ্টা হল। মাঝে কিছুদিন কলঙ্কের ছায়া পড়েছিল। সৌরভ, শচীন, দ্রাবিড়, কুম্বলেরা সেই ছায়া কাটিয়ে দেন। যা হল, নিতান্ত অসভ্যতা।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top