বল্লভভাই প্যাটেল, এমনকী গান্ধীকেও ‘‌নিজেদের’‌ আইকন বলতে চেয়েছে বিজেপি। সুভাষচন্দ্রকেও ‘‌দখল’‌ করার চেষ্টা। প্যাটেল ১৯৪৮ সালে গান্ধী–‌হত্যার পর নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন আরএসএস–‌কে। গান্ধীজি নিরলস থেকেছেন শান্তির পক্ষে, জাতিবিদ্বেষের বিপক্ষে। নেতাজি তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজে হিন্দু–‌মুসলিম ঐক্যের বাতাবরণ তৈরিই নয় শুধু, খাওয়ার ক্ষেত্রেও মিলেমিশে থাকার নিশ্চিত ব্যবস্থা করেছিলেন। সারা জীবন ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষতার প্রহরী। এবার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মের ২০০ বছর। বিজেপি–‌র ক্ষীণ চেষ্টা, ‘দখল’‌ করার। নেতাজি ইনডোরে অমিত শাহর হাতে তুলে দেওয়া হল মনীষীর এক মূর্তি। কিছু মনে পড়ল তখন। ২৬ সেপ্টেম্বর বিজেপি–‌র রাজ্য দপ্তরে বিদ্যাসাগর স্মরণ। এলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল। তেমন কিছু বলে উঠতে পারলেন না। হাজির ছিলেন রাজ্য নেতারাও। পেছনে লেখা— ঈশ্বরচাঁদ বিদ্যাসাগর। ‘‌ঈশ্বরচাঁদ’‌!‌ এভাবেই বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘‌বঙ্কিমচাঁদ’‌, শরৎচন্দ্রকে ‘‌শরৎচাঁদ’‌ বলবেন কি না কে জানে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় বলেছেন এক সাংবাদিক সম্মেলনে, বিদ্যাসাগর সতীদাহ প্রথা রদ করেছিলেন! হায় রামমোহন রায়!‌ ভুলটা ছড়িয়ে যাওয়ার পর অবশ্য মন্ত্রী সংশোধন করেছেন। ধন্যবাদ। বিদ্যাসাগর শুধু বাংলা নয়, দেশের শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের ‌ইতিহাসে এক চির–‌উজ্জ্বল নাম। কেন্দ্র বা বিজেপি–‌শাসিত কোনও রাজ্য সরকার কি এই চিরশ্রদ্ধেয় মানুষটিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কোনও কিছুর নাম দিয়েছে?‌ অনেক লড়াইয়ের পর, কর্মাটাঁড় নিয়ে সিদ্ধান্ত ঝাড়খণ্ডের। ১৮ বছর সেখানে ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র। ধারাবাহিক আন্দোলনের পর, ব্লকটির নাম বিদ্যাসাগরের নামে করা হয়েছে ঝাড়খণ্ডে। প্রবাসী বাঙালিরা লেগে ছিলেন। অবশ্য, বিদ্যাসাগর সম্পর্কে বিজেপি–‌র মনোভাব বুঝতে অসুবিধে নেই। অমিত শাহের মিছিল থেকে হিংস্র গুন্ডারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিল, নির্বাচনী প্রচারের সময়ে। আর কী বলার আছে?‌    

জনপ্রিয়

Back To Top