‘‌চৌকিদার’‌ আওয়াজ এখন পরিহাসেরই তীর নিক্ষেপ করছে। ‘‌ম্যায় ভি চৌকিদার’‌ জমছে না। রাফাল সেই আওয়াজ কেড়ে নিয়েছে। যখন থেকে বিজেপি তাঁকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরেছে, নরেন্দ্র মোদি বারবার বলতে থাকেন, আমি অতি সামান্য জায়গা থেকে উঠে এসেছি, গরিব মানুষের কষ্ট আমার মতো আর কে বুঝবে?‌ চা–‌ওয়ালা ছিলেন, কত কষ্ট করেছেন, কত যে প্রচার। দারিদ্র‌্য জয় করে বড় হয়েছেন, গরিবের কষ্ট বোঝেন, না মানলেও বোঝা গেল। কিন্তু ‘‌চা–‌ওয়ালা’‌ পরিচয় নিয়ে এত ঢাকঢোল পেটানো কেন?‌ ব্র‌্যান্ডিং, বিপণন। তিনি কত বড়, যে, কত কষ্টের জীবন থেকে এত দূর উঠে এসেছেন। গুজরাটের যে–‌স্টেশনে চা বিক্রি করতেন, তার নাম বডনগর। সেই জায়গাটাকে তুলে ধরতে চাইল মোদিরই সরকার। প্ল্যাটফর্মে একটা জায়গাকে বলা হল, সেখানেই ছিল ছোট্ট দোকানটা। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কাতারে কাতারে মানুষ চা–‌ওয়ালা থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া মহামানবের টানে ছুটে আসবেন। ভারতীয় রেলওয়ে একটু সাজাল। একটুই, সামান্য খরচ। সরকারি হিসেবই বলছে, ৭ কোটি টাকা, মাত্র। কয়েকজন সাংবাদিক এবার নির্বাচন চলার সময় হাজির হন বডনগর স্টেশনে। স্থানীয়রা বললেন, ওই জায়গাটায় চায়ের দোকান ছিল না। কাছেই কিছু দোকান, এক প্রবীণ দোকানদার বললেন, স্টেশনের বাইরে নরেন্দ্রর বাবার একটা চায়ের দোকান ছিল। পুত্র নরেন্দ্রকে দেখিনি, আছি তো ৬০ বছরের বেশি। চা দেওয়ার জন্য দুই কর্মচারী ছিলেন। স্টেশনে ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করতেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা। পর্যটন কেন্দ্র হবে নাকি?

জনপ্রিয়

Back To Top