সরকারি হাসপাতালে কেন আরও ভাল পরিষেবা পাওয়া যায় না, এমন অনুযোগ মাঝেমাঝে শোনা যায়। বেসরকারি হাসপাতাল নিয়েই কিন্তু অভিযোগ বেশি। এবং, আমাদের আরও কয়েকটা কথা মনে রাখতে হবে। রাজ্যের অন্তত ৯০ শতাংশ মানুষের চিকিৎসা হয় সরকারি হাসপাতালে। প্রতিদিন গড়ে ২ লক্ষ। ৯৯ শতাংশ রোগী যথাযথ চিকিৎসার পর বাড়ি ফেরেন। হাসপাতাল বেড়েছে, বেশ কয়েক হাজার বেড বেড়েছে, উন্নততর চিকিৎসার ব্যবস্থাও হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ভিড় একটা সমস্যা। শুধু আর্থিক কারণে নয়, আস্থা রয়েছে ও বেড়েছে বলেই এত ভিড়। ফলে সব কিছু সব সময় মসৃণভাবে চলে না। দ্বিতীয় সমস্যাটার কথা আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ডাক্তারের অভাব। মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা বেড়েছে। ডাক্তারের সংখ্যা বাড়লেও, প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। সমস্যা বেশি জেলায়। ডাক্তারি পাশ করার পর গ্রামাঞ্চলে গিয়ে কাজ করতে চান না অনেকেই। গেলেও, মন বসাতে পারেন না। অভ্যস্ত জীবনযাপনে ফাঁক থাকে। মেধাবী ডাক্তাররা বেশি অর্থ ও নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যের টানে কলকাতায় ও বড় বড় শহরে কাজ করতে চান। নার্সিংহোমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারলে অতিরিক্ত আয়। পরিকাঠামো তৈরি হওয়া সত্ত্বেও, জেলার সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের বেশি পাওয়া যায় না। তবু কিন্তু রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি। এদিকে, রোগী মারা গেলেই বিক্ষোভের, ভাঙচুরের অসুখ। মানুষ অমর নয়, অনেকে ভুলে যান। ডাক্তারের অভাব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আক্ষেপ, অন্য রাজ্যের অনেকে এই রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাশ করে নিজের রাজ্যে ফিরে যান। মেডিক্যাল কলেজ বাড়িয়েও সমস্যা তাই মিটতে চায় না। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন আরেকটি কথা। দেশের একমাত্র রাজ্য বাংলা, যেখানে সরকারি হাসপাতালে বিনে পয়সায় চিকিৎসার সুবিধা। রাজ্যের টাকা, রাজ্য সরকারের সদিচ্ছা ও উদ্যোগ, কিন্তু বিনে পয়সায় চিকিৎসা নিয়ে যান রাজ্যের, ভিন রাজ্যের, ভিন দেশেরও রোগীরা। ওঁরা ‘‌কোনওরকমে’‌ একটা স্থানীয় ঠিকানা জোগাড় করে নেন। কী করে বন্ধ করা যায়, ভাবা হচ্ছে। অবশ্যই ভাবতে হবে।
 

জনপ্রিয়

Back To Top