অবশেষে আইপিএল হওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত খবর পাওয়া গেল। আইসিসি অকারণ দেরি করছিল। বোর্ড সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলির লক্ষ্য স্থির ছিল। ভারতে এবছর করার উপায় ছিল না। সুতরাং ইউএই। যাবতীয় সতর্কতা থাকবে। বায়ো বাবল–‌এ সুরক্ষা। আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা। টি–‌টুয়েন্টি ক্রিকেটকে অনেকে বলেন ‘‌মশলা ক্রিকেট’‌।  টেস্ট ম্যাচকে গুরুত্বহীন করে দেওয়ার চেষ্টাও স্পষ্ট। আজকের দর্শকরা ধৈর্যহীন, পাঁচদিনের ক্রিকেটে অনাগ্রহী। যঁারা টি–‌টুয়েন্টি তথা আইপিএল–‌কে মেনে নিয়েছেন, দেখেন, তাঁরাও একটা প্রশ্ন তুলছেন। এত ঝুঁকি নেওয়ার কী দরকার ছিল?‌ স্রেফ অর্থের জন্য কেন এত আগ্রহী ভারতীয় বোর্ড?‌ টুর্নামেন্ট না হলে, বিপুল পরিমাণ অর্থ হারাত বোর্ড। প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ক্রিকেট কি তবে ব্যবসা?‌ কিছুটা তো বটেই। ভালবেসে খেলা পুরনো দিনের কথা। পাল্টা মতও আছে। আজকের দিনে পঁাচদিন ধরে, সারাদিন ধরে মাঠে থাকা সম্ভব নয়। ক্রিকেট মূলত বিনোদন। ক্রিকেটপ্রেমিকরা যা পচ্ছন্দ করবেন, করছেন, তাকে উপেক্ষা করা যায় না। দুটো কথা বলা যায়। এক, দেশবাসী যখন দুশ্চিন্তায় ম্রিয়মাণ, আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত, আইপিএল হয়তো কিছুটা মুক্তি দেবে। বিনোদন নেহাত অদরকারি নয়। যখন ঘরে বসে থাকতে হচ্ছে, ক্রিকেট যদি কিছুটা সময় ‘‌অন্যমনস্ক’‌ রাখে, খারাপ নয়। দুই, আইপিএল–‌এর টাকা ভারতীয় বোর্ডকে সমৃদ্ধ করেছে। শুধু তারকাদের বিপুল অর্থ উর্পাজনের জায়গা নয়। এই টাকার বড় অংশ খরচ হয় রাজ্য স্তরের ক্রিকেটারদের জন্য, যঁারা এতকাল উপেক্ষিত ছিলেন জুনিয়র স্তর পর্যন্ত যথেষ্ট ব্যয় করা হয়। ভারতীয় ক্রিকেটের সার্বিক স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী আইপিএল।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top