সত্যবাদী, এমন সুনাম ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্তত নেই। তবে এখন মনে হচ্ছে, মুখ ফসকে বলে ফেললেও, একটা সত্যি কথা বলেছিলেন সেদিন। সীমান্তে চীনের সঙ্গে অশান্তি নিয়ে নরেন্দ্র মোদি খুবই মনমরা হয়ে আছেন, ট্রাম্প বলে ফেলতেই একেবারে বিবৃতি দিয়ে অস্বীকার করেছিল ভারত। বস্তুত ট্রাম্পকে মিথ্যাবাদী বলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু লাদাখ সীমান্তে সঙ্ঘর্ষের পর ওয়াশিংটনের সরকারি বিবৃতিতে অনুচ্চারে মধ্যস্থতার‌ ইচ্ছাপ্রকাশ করা হয়েছে। দক্ষিণপন্থী এই নেতাদের সমস্যা এই যে, জাতীয়তাবাদ মুখের বুলি হলেও, দেশের থেকে নিজেদের স্বার্থের কথাই তঁারা বেশি ভাবেন। যেমন ট্রাম্প। আজন্ম রিপাবলিকান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন হাটে হঁাড়ি ভেঙে দিয়েছেন। তঁার লেখা ‘‌দ্য রুম হোয়্যার ইট হ্যাপেনড’‌ বইটি তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। বোল্টনের বক্তব্য, পুনর্নির্বাচিত হওয়ার জন্য ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাহায্য চেয়েছিলেন। অথচ গোটা দুনিয়া তঁাকে দু’‌বেলা উঠতে–‌বসতে চীনের বাপান্ত করতেই দেখে। ট্রাম্প টুইট করে বলছেন, চীনের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেব, আর তঁার প্রশাসনের কর্তা কংগ্রেসে দঁাড়িয়ে জানিয়ে আসছেন সেটা অসম্ভব। বস্তুত এক মেরু দুনিয়া আর নেই, আমেরিকার সমান শক্তিধর এখন চীনও। ট্রাম্পের মতো আমাদের নেতাও এতদিন ছিলেন চীনের দাক্ষিণ্যভোজী। বিভিন্ন চীনা কোম্পানি তঁার দলের ভাণ্ডারও যারপরনাই স্ফীত করেছে। বাণিজ্য ক্ষেত্রে চীনকে বর্জন করতে গেলে ভারতের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা বিপন্ন হবে। মা–‌বোনেদের সস্তার শাড়ি বা পোশাক জুটবে না। মনে আছে, পুলওয়ামা–‌কাণ্ডের পর থরে থরে সাজানো কফিনের সামনে তৈরি করা সেই নাটকীয় মুহূর্ত, দেশজোড়া টেলিভিশন সম্প্রচার। তখন ভোট ছিল। তখন দিগ্বিদিক কেঁপে উঠেছিল রাম–‌ধ্বনিতে, আজ শোকের মাত্রা এতই বেশি যে শাসক দল সব কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে। নেহরুর পঞ্চশীল নীতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে প্রচার করে সাফল্য এসেছে, এবার মানে মানে জোট নিরপেক্ষ অবস্থানে ফিরুক ভারত।

জনপ্রিয়

Back To Top