নিজেকে নিয়ে তাঁর কোনও ‘‌গর্ব’‌ নেই, তাঁর জন্য আমাদের আছে। সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বক্তৃতা করেন অমর্ত্য সেন। হলের সব আসন ভর্তি, আরও অনেকে ঢুকতে চান, ঠায় দাঁড়িয়েও শুনলেন অনেকে। সেই ভিড় সামলাতে সমস্যা হচ্ছিল। অমর্ত্য বলেছেন, নবীনদের এই উদ্দীপনা তাঁকে অনুপ্রাণিত করে। নির্দিষ্ট বক্তৃতা শেষ হওয়ার পর তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, এখন যে বাংলায় ‘‌জয় শ্রীরাম’‌ ধ্বনি  দিচ্ছেন অনেকে, তার তাৎপর্য কী?‌ নোবেলজয়ী বলেন, বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে এই ধ্বনির কোনও সম্পর্ক নেই। ‘‌জয় শ্রীরাম’‌ বলে প্রহার করা হচ্ছে অনেক মানুষকে। তিনি তাঁর ছোট্ট নাতনিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, প্রিয় দেব বা দেবী কে?‌ উত্তর, মা দুর্গা। রামনবমীর সংস্কৃতি ছিল না বাংলায়। পরে এক সাক্ষাৎকারে, আরও কিছু কথা বলেছেন অমর্ত্য। তাঁর মন্তব্য ঘিরে গেরুয়া শিবির থেকে কটু কথা উড়ে এসেছে। ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি তার জবাবে, বলার মানুষই নন। বক্তব্য, মেঘালয়ের রাজ্যপাল (‌তথাগত রায়)‌ আমাকে বাংলা শেখাতে চেয়েছেন। শেখার থাকলে শিখে নেব!‌ .‌.‌.‌ আমরা শুনেছি, রাজ্য বিজেপি–‌র সাধারণ সম্পাদক বলেন, অমর্ত্য সেন ইতিহাস জানেন না!‌ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ তো এই নিয়ে পনেরোবার অমর্ত্যকে আক্রমণ করলেন। বলেন, বিদেশে থাকেন, দেশ সম্পর্কে কিছু জানেন না!‌ প্রণম্য শিক্ষক। ২০১৪ থেকে বিজেপি সরকার অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় বড় পদে তো বিদেশে–‌থাকা অর্থনীতিবিদদেরই এনেছে, ন্যূনতম স্বাধীনতার অভাবে তাঁরা ছেড়ে দিয়েছেন। অমর্ত্য সেন শুধু নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ নন। সমাজতত্ত্ববিদ, দার্শনিক, তাঁর অবদান বিশ্বে শুধু স্বীকৃত নয়, অনেক দেশ তাঁর চিন্তাভাবনাকে রূপায়িত করছে। ‘‌বাংলার গর্ব’‌ বললে কম বলা হয়। তিনি সমাজের গর্ব।‌

জনপ্রিয়

Back To Top