ভারত–‌পাক উত্তেজনা নিয়ে সবথেকে খারাপ ভূমিকা এবার সোশ্যাল মিডিয়ার। যে কোনও যুক্তিবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষই একথা বলেছে। আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকায় গোটা দুনিয়া ‘‌ছিছি’‌ করেছে। যারা সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে গর্বে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়, যারা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারক এবং ঝান্ডাধারী তারা শুনলে নিশ্চয় লজ্জা পাবেন, এই সময়ে সবথেকে বেশি গুজব ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। এখন চোর ডাকাতের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর পুলিশ প্রশাসনকে নজর রাখতে হচ্ছে। বলতে হচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সন্দেহজনক কিছু দেখলে থানায় খবর দিতে হবে। যা পাওয়া যাচ্ছে, তা আর একজনকে ‘‌ফরোয়ার্ড’‌ করবার আগে ভেবে নিতে হবে, কাজটা সমাজের জন্য অমঙ্গল ডেকে আনছে কিনা। দাঙ্গা, বিপর্যয়ের সময় সবর্দাই সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা খুব খারাপ হয়। নেট যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে হয়। এবার করা উচিত ছিল। তাহলে অনেক ভয়ঙ্কর ঘটনা এড়ানো যেত। দেশপ্রেমের মিথ্যে প্রচার ছড়িয়ে কয়েকদিন ধরে শুধু নির্দিষ্ট একটা দলের হাতের পুতুল হয়ে খেলেনি সোশ্যাল মিডিয়ার ‘‌বিপ্লবী’‌রা, তারা উত্তেজনাও তৈরি করেছে। ভিডিও গেমসের ছবি প্রচার করে যুদ্ধের জিগির কে তুলেছে?‌ সোশ্যাল মিডিয়া। যখন যে কোনও ভদ্রলোক, শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলে, তখন মিথ্যে খবর ছড়িয়ে, ছড়া কেটে, ফটোশপে মিথ্যে ছবি বানিয়ে যুদ্ধের জয়গান কে গেয়েছে?‌ সোশ্যাল মিডিয়া। কোনও কোনও সোশ্যাল মিডিয়া এখন আবার বীর জওয়ানের গোঁফ নিয়ে প্রচারে নেমেছে!‌ কত নীচে নামা যায়!‌ সোশ্যাল মিডিয়ার  মুখোশ খুলে গেছে। ‘বিপ্লবী’‌ সেজে থাকা বেরিয়ে গেছে। কেউ কেউ ফেসবুকে যুদ্ধের বিরুদ্ধে লিখতে গেছে। সংখ্যায় অতি অল্প হলেও গেছে। দেশপ্রেমী গুন্ডারা তাদের আক্রমণ করছে। একজন ফেসবুক বিপ্লবীকেও ঘর থেকে বেরিয়ে তাদের পাশে গিয়ে দঁাড়াতে দেখা যায়নি। ফেসবুকে স্বার্থপর ‘‌ফ্রেন্ড’‌ পাওয়া যায়, বিপদে সত্যিকারের ‘‌বন্ধু’‌ পাওয়া যায় না। কেউ কেউ বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার 
নাকি ভাল মন্দ দুই–‌ই আছে। যে যেমন ভাবে ব্যবহার করবে। দেশের সবথেকে সঙ্কটজনক সময়ে, মানবতার সবথেকে সঙ্কটজনক সময়, লাগাম ছাড়া ভাবাবেগের সবথেকে সঙ্কটজনক সময় সোশ্যাল মিডিয়া কোন ‘‌ভাল কম্ম’‌টি করেছে?‌ পরে আর ‘‌ভাল কম্ম’‌ কী করবে?‌ ফেসবুক বিপ্লবীরা হয় গুজবে গা ভাসিয়েছে, নয় গর্তে ঢুকে গেছে। আবার গর্ত থেকে বেরোবে। 
গুন্ডারা শান্ত হলেই বেরোবে।

জনপ্রিয়

Back To Top