অরুণ জেটলি পেশায় আইনজীবী, মক্কেলের স্বার্থরক্ষায় সাজানো যুক্তির জাল বোনাই তাঁর কাজ। কিন্তু সংসদকে মাঝে‌মধ্যে তিনি আদালতের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। তাঁর ‘‌মক্কেল’‌ নরেন্দ্র মোদির মহত্ত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে প্রায়শই ভুলের ফাঁদে জড়িয়ে যান জেটলি। অসংরক্ষিত শ্রেণির জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণ নিয়ে বলতে উঠে জেটলির বক্তব্যের অস্যার্থ ছিল, সংবিধান সংশোধন বিল পাশ হলে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। ভুল। অতীতে সংবিধান সংশোধনী সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হয়েছে। এবারও হতে চলেছে, তার কারণ সংরক্ষণে দুটি মাপকাঠি রাখা চলে না। অনুন্নত শ্রেণিকে জাতের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দিলে পাশাপাশি আর্থিক ভিত্তিতেও তা চালু করা যায় না। ইন্দ্রা সাহনে মামলায় গরিবদের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণ এর আগে ‘‌অসাংবিধানিক’‌ বলে খারিজ হয়েছে। আর তেলেঙ্গানায় ভোটের আগে চন্দ্রশেখর রাও মুসলিমদের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণ ঘোষণা করায় তাঁর বাপান্ত করেছিলেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ।

এ–‌ও বলেছিলেন যে, সুপ্রিম কোর্টে ওই সিদ্ধান্ত টিকবে না। জেটলি আবার সংসদে দাঁড়িয়ে উল্টো কথাই বলছেন। অবশ্য জটিল বিষয়ে মক্কেল মোদি বলেন না, লোকসভার সদস্য না হলেও এগিয়ে দেন উকিল জেটলিকেই। আর গরিবির কী অসামান্য মাপকাঠি তৈরি করেছেন জেটলিরা— বছরে ৮ লক্ষের কম আয়, শহরে হাজার বর্গফুটের কম মাপের বাড়ি, গ্রামে ৫ একরের কম জমি!‌ সেই আর্থিক সামর্থ্য যাঁদের আছে, তাঁরা সাধারণ সরকারি চাকরির জন্য বসে থাকবেন?‌ যখন সারা দেশে প্রায় ২৫ লক্ষ সরকারি পদে নিয়োগই হচ্ছে না, বিভিন্ন কলেজ–‌বিশ্ববিদ্যালয় চলছে হাজার হাজার অস্থায়ী শিক্ষক নিয়ে, তখন এই হাস্যকর বিল আনার কোনও মানে হয়?‌ অতীতে মেডিক্যাল কলেজে মেয়েদের ১০ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়া হত। এখন মেয়েরা নিজেদের জোরেই ৬০%‌ সাফল্য পেয়ে যায়। এখানেও ব্যাপারটা সেরকমই। যারা ৫০ শতাংশ চাকরি স্বাভাবিক পথেই পেতে পারে তাদের ১০ শতাংশ সংরক্ষণ!‌ অবাক করলেন জেটলি। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top