‌আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব অস্বীকার করার প্রশ্ন ওঠে না। কিন্তু দিনে দিনে তা সমাজের পক্ষে চরম বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, মিথ্যা প্রচারের বাহন। মিডিয়ার একাংশ সম্পর্কেও কথাটা বলা যায়। দু’‌টি সর্বভারতীয় চ্যানেল কুৎসা ছড়ায়, বিভেদের বিষ ছড়ায় প্রায় প্রতিদিন। ব্যতিক্রম। সোশ্যাল মিডিয়া বাধাহীন। যা খুশি করা যায়। অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি তুলে রেখে ‘‌প্রেমিকা’‌–‌কে বিপন্ন করা, আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া কিছু যুবকের প্রিয় খেলা। সুশান্ত সিং রাজপুতের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর মাদক নিয়ে জেরা করা হল কয়েকজন অভিনেত্রীকে, যঁারা কেন্দ্রের শাসক দলের তল্পিবাহক হননি। রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে নামানো হয়েছে তিনটি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে। হত্যায় জড়িত, টাকা সরিয়েছেন, মাদক চক্রের মাথা— কিছু বাকি থাকেনি। ‘‌বাঙালি ডাইনি’‌ পর্যন্ত বলা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দঁাড় করানো সম্ভব হয়নি। এক চ্যানেল সলমন খানকে ‘‌‌ড্রাগ ‌বস’‌ বলে দিল। সূত্র নেই, বলা হল। মহেন্দ্র সিং ধোনি আইপিএল–‌এর মাঝপথ পর্যন্ত রান পাননি। এক সমর্থক ধোনির ৫ বছর বয়সি মেয়েকে ধর্ষণের হুমকি দিল!‌ ধোনি প্রত্যাঘাত করেননি, করেন না। সম্প্রতি ‘‌তনিষ্ক’‌ একটি দুর্দান্ত বিজ্ঞাপন প্রচার করে। হিন্দু পুত্রবধূকে ‘‌সাধ’‌ উপলক্ষে নেকলেস দিচ্ছেন অহিন্দু শাশুড়ি। রে রে করে গালিগালাজ শুরু হল সঙ্ঘ–‌ গুন্ডাদের দিক থেকে। বিজ্ঞাপনটা দারুণ, ‘‌একাত্মম’‌। ভারতের ঐতিহ্য। এটা নাকি ‘‌লাভ জেহাদ’‌। মুসলিমরা জোর করে হিন্দু মেয়েদের বিয়ে করছেন!‌ শোরুমে আক্রমণ হয়েছে। কোম্পানি এই বিজ্ঞাপন তুলে নিল। এই জায়গায় এসে দঁাড়িয়েছি আমরা। কবে ঘুরে দঁাড়াব?‌

জনপ্রিয়

Back To Top