ভাল কবিতা এমনিতেই প্রাণবন্ত। যঁারা শম্ভু মিত্রের কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের ‘‌দুঃসময়’‌ শুনেছেন, তঁারা মানেন, দুরন্ত কবিতায় যেন আরও প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন অবিস্মরণীয় শিল্পী। ‘‌এখনি অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা’‌ যখন উচ্চারণ করতেন, দু–‌হাত ছড়িয়ে ডানা ঝাপটানোর ছবিই বা সেদিনের শ্রোতারা কী করে ভুলবেন?‌ উদাহরণ, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ‘‌ছন্নছাড়া’‌। ভাল লাগার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন নজরুল–‌পুত্র কাজী সব্যসাচী। শেষ দিকে যখন ‘‌প্রাণ আছে বেঁচে আছে’‌ উচ্চারণ করছেন, শিহরিত হতেন শ্রোতারা। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, বসন্ত চৌধুরি, পার্থ ঘোষ, গৌরী ঘোষ, জগন্নাথ বসু, ঊর্মিমালা বসু মুগ্ধ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ের সেরা আবৃত্তি শিল্পী ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়। কাজী সব্যসাচীর পরেই আবির্ভাব প্রদীপ ঘোষের, মহা সমারোহে। দু’‌জন শিল্পী একসঙ্গেও থেকেছেন অনেক অনুষ্ঠানে। জনপ্রিয় ছিলেন প্রায় স্বর্ণযুগের বাংলা গানের শিল্পীদের মতোই। একই অনুষ্ঠানে নজরুলের ‘‌বিদ্রোহী’‌ আবৃত্তি করলেন সব্যসাচী। শ্রোতাদের অনুরোধে প্রদীপ ঘোষকেও সেই কবিতা আবৃত্তি করতে হল। এতটাই ছিল জনপ্রিয়তা। নজরুলের ‘‌কামাল পাশা’‌ যিনি শুনেছেন প্রদীপ ঘোষের কণ্ঠে, তঁাদের সারা জীবনের সঞ্চয়। রবীন্দ্রনাথের ‘‌আফ্রিকা’‌ এবং ‘‌দেবতার গ্রাস’‌ প্রদীপের দীপ্তিতে ঝলমল করত। জীবনানন্দ, বিষ্ণু দে–‌র কবিতাও ছিল তঁার কণ্ঠে। পরের প্রজন্মের শিল্পীরা পূর্বসূরি মানেন তঁাকে। সেই প্রদীপ ঘোষের জীবনাবসান হল। মনে হয়, আরও মর্যাদা প্রাপ্য ছিল তঁার।

জনপ্রিয়

Back To Top