প্রবীণতমরাও জীবৎকালে এমন পরিস্থিতি দেখেননি। ১৯১৮ সালে আমেরিকা থেকে ইওরোপে অতিমারী হয়েছিল। স্প্যানিশ ফ্লু–‌এ মৃত্যু হয়েছিল লক্ষ লক্ষ মানুষের, পৃথিবীর সব দেশে পৌঁছয়নি। ৪০০ বছর আগে মারাত্মক প্লেগ বিলেতে, মহামারী, অতিমারীর চেহারা নিয়েছিল। প্রায় ১৬৫ বছর আগে প্রধানত ইওরোপে প্রসূতিরা আক্রান্ত হচ্ছিলেন ‘‌চাইল্ড–বেড’‌ রোগে। হাঙ্গেরির এক চিকিৎসক, ইগনাস ওয়েসেমেলওয়াসিস বলেন, ঘন ঘন হাত ধুতে হবে। প্রয়োগ করে ফল পাওয়া গিয়েছিল। ১৮৬১ সালে, যে বছর জন্ম রবীন্দ্রনাথের, ওয়েসেমেলসিস সেই প্রসঙ্গে বই লেখেন। ধ্বংসের মধ্যে সৃষ্টি। ৪০০ বছর আগে মারণ প্লেগ–এ আক্রান্ত হয়েছিল ইংল্যান্ড। এক লক্ষ মানুষের মৃত্যু। সব বন্ধ, ঘরবন্দি হতে হয়েছিল মানুষকে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, ঘরবন্দি একুশ বছর বয়সি তরুণ। লেখাপড়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি। পাঠ্য বিষয়ের বাইরে ভেবেছেন, অঙ্ক কষেছেন। গাছ থেকে আপেল পড়ে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির আবিষ্কার হবে কয়েক বছর পরে। মেধাবী তরুণ, বয়স একুশ, বের করে ফেললেন অঙ্কশাস্ত্রের নতুন দিক। জন্ম হল মডার্ন ক্যালকুলাসের। আইজ্যাক নিউটন। মাধ্যাকর্ষণ শক্তির আবিষ্কার পরে তাঁকে জগৎবিখ্যাত করবে, চিরস্মরণীয় করে রাখবে, কিন্তু সেই একুশ বছর বয়সে দিগন্তপ্রসারী ভাবনার উন্মোচন। মোটামুটি সেই সময়ে, ঘরবন্দি এক নাট্যকার। কবি। গালে হাত দিয়ে বসে থাকলেন?‌ তাহলে আর তিনি বরণীয় হবেন কী করে?‌ লিখলেন অনেক কবিতা। লিখলেন নাটক। কিং লিয়র, ম্যাকবেথ, অ্যান্টনি অ্যান্ড ক্লিওপেট্রা। প্লেগের প্রকোপ কয়েক বছর জুড়ে। মৃত্যু হল তাঁর প্রিয় পুত্রের। তারপর, লিখলেন অমর ট্র‌্যাজেডি — হ্যামলেট। উইলিয়াম শেক্সপিয়র। আজ, এখন, সারা পৃথিবী সন্ত্রস্ত। বিজ্ঞানীরা ভাবছেন, করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক নিয়ে। তার বাইরেও, নানা ক্ষেত্রে হয়তো সৃষ্টিশীল মহানরা সক্রিয়। ধ্বংসের মধ্যে সৃষ্টি।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top