কাশ্মীরে ‘‌ব্যবস্থা’‌ নেওয়ার আগে পর্যটকদের দ্রুত রাজ্য ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। অসুবিধায় পড়েছিলেন অনেকে, ফিরে আসার ক্ষেত্রে সমস্যাও ছিল। দু’‌মাসের বেশি পর্যটকদের যাওয়া বন্ধ, তার মধ্যে পুজোর ছুটি। এই ১৫ দিনে বছরের ৫০–‌৬০ শতাংশ ব্যবসা হয় পর্যটনে। ১৭ লক্ষ মানুষ সরাসরি নির্ভরশীল এই ব্যবসায়। পরোক্ষভাবে আরও অনেকে। বিপর্যস্ত রাজ্য, রুজি–‌রোজগার বন্ধ। সম্প্রতি সরকার ঘোষণা করল, কাশ্মীরে পর্যটকরা স্বাগত। সেদিনই পর্যটন ব্যবসায়ীদের বড় অংশ জানিয়েছে, এই ‘‌স্বাগত’‌ হাস্যকর। দ্রুত পর্যটক আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কোনও ব্যবস্থা নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে, পর্যটকদের স্বাগত জানানোটা প্রহসন ছাড়া কিছু নয়। কলকাতায় দু–‌একটি ট্রাভেল এজেন্টের কর্তাদের মুখে শোনা গেল, এর মধ্যেই দু–‌চারজন খোঁজ নিতে শুরু করেছেন, কবে ভূস্বর্গে যাওয়া যাবে। ট্রাভেল এজেন্সি স্বভাবতই চাইবে, কাশ্মীর–‌সফর শুরু হোক। কিন্তু, যে দু–‌তিনজন খোঁজ নিচ্ছেন, তাঁরা সত্যিই যেতে চান?‌ পোস্ট–‌পেইড মোবাইল অবিলম্বে চালুর কথা বলা হয়েছে। শ্রীনগরে পরিচিতদের ফোন করে কিছু পাওয়া গেল না। ল্যান্ড লাইনেও কড়াকড়ি। এক মিনিটে ফোন কেটে দিচ্ছেন সন্ত্রস্ত পরিচিতরা। ইন্টারনেট বন্ধ। যোগাযোগের সমস্যা নিয়ে যাবেন পর্যটকরা?‌ শ্রীনগরে না হয় পৌঁছলেন, কোথাও ঘুরতে পারবেন?‌ ধরে নিচ্ছি, শ্রীনগরের হোটেলগুলো ‘‌স্বাগত’‌ জানাতে তৈরি, পর্যটকরা ঘুরবেন কোথায়, কী করে?‌ ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে শ্রীনগরের লালচকে গ্রেনেড বিস্ফোরণ। পরিস্থিতি এত অস্বাভাবিক, স্কুল খুলেছে ছাত্রছাত্রী নেই। যান–‌চলাচল কার্যত বন্ধ। যাবেন?‌ অক্টোবরে শিল্প সম্মেলনের কথা বলা হয়েছিল, সত্যিই হবে?‌ ১১ অক্টোবর স্থানীয় কাগজগুলোয় সরকারের বিজ্ঞাপন:‌ দোকানপাট বন্ধ, বাস বন্ধ, আপনারা কি সেটাই চান?‌ জঙ্গিদের সমর্থন করলেন?‌.‌.‌.‌ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এমন বিজ্ঞাপন দিতে হয়?‌  ‌

জনপ্রিয়

Back To Top