কুড়ি.‌.‌. ‌একুশ.‌.‌. ‌বাইশ.‌.‌. ‌গুনে চলেছেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, অন্য বিজেপি নেতারাও। ত্রিপুরায় জিতে সংখ্যা বাড়ালেন। জুড়ে দিচ্ছেন নাগাল্যান্ড, মেঘালয়ের নামও। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়ে ক্ষমতা হারাতে হতে পারে ওঁদের, অদূর ভবিষ্যতেই, সেই হিসেবে যাচ্ছি না। এখনকার কথাই ভাবা যাক। বিহারকে ওঁরা ‘‌নিজেদের’‌ ধরছেন, মুখ্যমন্ত্রী জেডিইউ–‌এর নীতীশকুমার। যিনি একবার এদিকে, একবার ওদিকে, দিক বদল করতেই থাকেন। মহারাষ্ট্রে বিজেপি–‌র মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু শিবসেনার সমর্থনে চলছে সরকার। শিবসেনা যেভাবে প্রায় প্রত্যেক ইস্যুতেই বিজেপি–‌বিরোধিতা করে চলেছে, রাজ্যটা শুধু মোদির দলেরই হাতে, বলা যাবে না। অন্ধ্রপ্রদেশে প্রধান শাসক দল তেলুগু দেশম। শক্তিশালী মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, যিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। জম্মু ও কাশ্মীরে সরকারে আছে বিজেপি, কিন্তু প্রধান দল পিডিপি, মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। জোট ভেঙে যেতে পারে যে–‌কোনও দিন। অসম ও ত্রিপুরায় যেভাবেই হোক, ক্ষমতা দখল করেছে অমিত শাহদের দল, ঠিক। কিন্তু উত্তর–‌পূর্ব ভারতের অধিকাংশ রাজ্যেই বিজেপি সহায়ক শরিক, প্রধান শক্তি নয়। গোয়া ও মণিপুরে বিধানসভা ভোটে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছিল কংগ্রেস। আঞ্চলিক দলকে ছলে–‌বলে–‌কৌশলে টেনে নিয়ে সরকার গড়েছে বিজেপি, ভোটে জয় পায়নি। এবার মেঘালয়েও সবচেয়ে বড় দল কংগ্রেস। এবং এবারও, কিছুটা কংগ্রেস নেতৃত্বের ব্যর্থতায়, কিছুটা কেন্দ্রীয় সরকারে থাকার ‘‌সুযোগসুবিধে’‌ কাজে লাগিয়ে সরকারে বিজেপি। কত আসন পেয়েছে নির্বাচনে?‌ ৬০ আসনের মধ্যে ২!‌ এখনও সংখ্যার বিচারে দেশের সবচেয়ে বড় দল বিজেপি। ‘‌অচ্ছে দিন’‌–‌এর ছবি আবছা হয়ে যাচ্ছে। যাচ্ছে বলেই, ছোট্ট রাজ্য ত্রিপুরায় জিতে এত উল্লাস। ২০১৯ আসতে দিন। হাওয়া উল্টোদিকে বইতে শুরু করলে, কত রাজ্য হারাতে হয়, গুনতে হবে বিজেপি নেতাদের। প্রায় সবই দখলে এসে গেছে, তা নয়। এখনও নয়, তখন তো থাকবেই না।‌

জনপ্রিয়

Back To Top