সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে দেশের দুই মাননীয় রাজ্যপাল দুটি ভয়ঙ্কর মন্তব্য করছেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। একজন বলেছেন, কাশ্মীরকে নানাভাবে বয়কট করতে হবে। সেখানে যাওয়া যাবে না। সেখানকার জিনিস কেনা যাবে না। সহজেই বোঝা যায়, একথার মানে হল, কাশ্মীর দেশের বাইরে একটা জায়গা। সেখানকার বাসিন্দারাও ভারতবাসী নন। ফলে তাদের অর্থনৈতিকভাবে বয়কট করতে হবে। আর এক রাজ্যপাল বলেছেন, দেশের ভিতরে ও বাইরে কেউ কেউ প্রশ্ন করছেন, বালাকোটের কোথায় বোমা ফেলা হয়েছে?‌ কতজন জঙ্গি নিহত হয়েছে?‌ প্রমাণ কোথায়?‌ এরা নাকি দেশের সেনাবাহিনীর বীরত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এই কথার অর্থ হল, এই প্রশ্ন তোলাটাই দেশবিরোধী কাজ। দেশের বাইরের লোক যেকথা বলতে পারে, দেশের ভিতরে কেউ সেকথাই বলছে। বিরোধীরা দেশবিরোধী।

 রাজ্যপাল পদটি একটি দায়িত্ব সম্পন্ন, সাংবিধানিক পদ। অথচ এই দুটি মন্তব্যই দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং সংবিধান–‌বিরোধী। কোনও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর মতো কথা রাজ্যপাল বলতে পারেন না। তবে রাজ্যপালদের এই অভ্যেস নতুন নয়। যুগে যুগে তাঁদের নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। শুধু মন্তব্য নয়, তাঁদের কাজ নিয়েও তুমুল ঝড় উঠেছে। রাজ্যের নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে কতটা এগোনো উচিত, কোনটা সীমারেখা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। একসময়ে এমনও দাবি উঠেছিল, রাজ্যপাল পদটিরই অবলুপ্তি ঘটানো হোক। আবার এটাও ঠিক, পদটি কোনও কোনও সময় গণতন্ত্রে প্রহরী হিসেবেও কাজ করেছে। আসল কথা হল, দায়িত্বে বসে কে সচেতন থাকবেন। কোনও রাজ্যপাল যদি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অংশ হিসেবে নিজেকে মনে করেন তা পদটির পক্ষে অমর্যাদার হবে। কোনও রাজ্যপাল যদি নিজেকে কোনও দলের কর্মী হিসেবে ভাবেন তা পদটির জন্য হবে লজ্জার।

জনপ্রিয়

Back To Top