টেলিভিশনে প্রচারিত অমিত শাহর ভাষণটিতে দুটো কথা ছিল। বিরোধীদের কটাক্ষ করে বাক্যবাণ, ওঁরা কিছুই জানেন না। নিশ্চয় শিক্ষাদীক্ষার অভাব। শুরু থেকেই জানতাম, পড়ে শুনে জেনে রাজনীতিতে আসতে হয়। গান্ধীনগর কেন্দ্রে অমিতবাবু মনোনয়ন পেশ করলেন বিশাল হইচই দিয়ে। মোদি ছাড়া শাসক শিবিরের নেতারা হাজির। হলফনামা থেকে জানা গেল, বিশেষ উচ্চশিক্ষিত তাঁকে বলা যায় না। বি কম দ্বিতীয় বর্ষে ইতি। অবশ্য, ডিগ্রি না পেয়েও প্রার্থী হতে পারেন কেউ। অমিত শাহও কি তা–‌ই?‌ দ্বিতীয় কথাটা ছিল, রাহুল–‌প্রিয়াঙ্কা রাজপরিবারের সদস্য, ওঁরা বিলাসে থাকেন। আমি, আমরা সাধারণ, ন্যূনতম প্রয়োজনের বেশি আয় দরকার হয় না। অনাড়ম্বর জীবনযাপন করি, বেশি অর্থের কী দরকার?‌ হলফনামায় জানা গেল, বিজেপি সভাপতির ব্যক্তিগত স্থাবর–‌অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৩৯ কোটি টাকা, মাত্র। গত পাঁচ বছরে সম্পদ বেড়েছে তিনগুণ, মাত্র। এর বাইরে, পাশাপাশি আছে স্ত্রীর সম্পত্তি। গত পাঁচ বছরে বেড়েছে ১৬ গুণ, মাত্র। ওঁদের মাসিক আয় কত?‌ ২৪ লক্ষ টাকা, মাত্র। সাধারণ, অনাড়ম্বর জীবনযাপনের জন্য যতটুকু লাগে আর কী!‌‌ বলা বাহুল্য, পুত্র জয় শাহর সম্পত্তি ও আয়ের তথ্য জানা যায়নি। তাঁর ব্যবসার বহর কত বেড়েছিল এক বছরে?‌ কয়েকশো গুণ, মাত্র। শাসক দলের সভাপতির সামান্য সম্পত্তি, যৎকিঞ্চিৎ আয় এবং সেই সূত্রে অতি সাধারণ জীবনযাপনের কথা শুনে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ নিশ্চয় চমৎকৃত হবেন। নেতার জন্য গর্বিত হবেন। মাসে ২৪ লক্ষ টাকা আয়ের উৎস কী?‌ অন্যতম প্রধান উৎস, হলফনামায় তিনিই জানাচ্ছেন, সম্পত্তি ভাড়া। এত সম্পত্তি কী করে হল ‘‌ত্যাগী’‌ নেতার?‌  উত্তর জানা নেই আমাদের।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top