বয়স তো মাত্র তিরিশের কাছাকাছি। পোড়খাওয়া রাজনীতিক নন, সেলিব্রিটি নন, বিত্তশালী নন, বাহুবলী নন। তবে এত ভয় কেন কানহাইয়া কুমারকে?‌ জেএনইউ ছাত্র সংসদের প্রাক্তন সভাপতি ভারতবিখ্যাত হয়ে উঠেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সেই দুর্ধর্ষ বিজেপি–‌বিরোধী বক্তৃতার সূত্রে। এবার বিহারের বেগুসরাই কেন্দ্রে সিপিআই প্রার্থী। কেন বিজেপি–‌বিরোধী জোটের সর্বসম্মত প্রার্থী হলেন না?‌ ঘোর আপত্তি লালু–‌তনয় তেজস্বী যাদবের। প্রথমে তিনের কথা বললেও, শেষ পর্যন্ত শুধু বেগুসরাই আসনটাই চেয়েছিল সিপিআই, যারা ওই কেন্দ্রে কমবেশি ২ লাখ ভোট টানা পেয়ে আসছে। একসময়ে ছিল বাম গড়। বিহারের এক বিশিষ্ট সাংবাদিক লিখেছেন, তেজস্বীর হয়তো ভয়, সাংসদ হলে ক্রমশ বিহারে জনপ্রিয়তার পারদ চড়বে কানহাইয়ার, রাজ্যে বিজেপি–‌বিরোধী শক্তির প্রধান নেতা হয়ে উঠবেন তিনি। হাস্যকর ভয়। বিহারে বামপন্থীরা সরকার গড়বেন, কোনও সম্ভাবনা নেই। অদূর ভবিষ্যতেও থাকবে না। সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রাক্তন ছাত্রনেতা হয়ে উঠবেন লালু–‌তনয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী, এমন ভয় পাওয়ার জন্য উর্বর মস্তিষ্কের প্রয়োজন। কুখ্যাত গিরিরাজ অন্য আসন চেয়েছিলেন, নিজের কেন্দ্র হারিয়ে বিজেপি প্রার্থী হতে হয়েছে বেগুসরাইয়ে। প্রথম ভাষণেই বললেন, গোটা দেশ বেগুসরাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে, যেন বিপজ্জনক কানহাইয়াকে নিশ্চিতভাবে হারানো যায়। প্রতিপক্ষ আরজেডি প্রার্থীকে নিয়ে যেন কোনও চিন্তাই নেই। শিবসেনা তিন বছর ধরে মোদি তথা বিজেপি–‌কে নিয়মিত আক্রমণ করে যাওয়ার পর বন্ধুই থেকেছে। চাপের রাজনীতি করে কিছু আসন বাড়িয়ে নেওয়া। শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত লিখেছেন, হ্যাঁ, লিখেছেন, ‘‌কানহাইয়াকে হারানোর জন্য দরকার হলে ইভিএম–‌এ কারচুপি করুন!‌ ও হল বিষের শিশি।’‌ এত ভয়!‌ লোকসভা কেন্দ্রে খরচ অন্তত ৭০ লক্ষ টাকা। সোশ্যাল মিডিয়ায় সাহায্য চেয়েছেন কানহাইয়া। ২৮ ঘণ্টায় ২৪ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে। এমন তরুণকে ভয় পাবে না ওরা?‌  ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top