রাষ্ট্রপতি থেকে রাজনীতিকরা, সর্বভারতীয় স্তর থেকে শোকবার্তা এসেছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে। তিনি দেশের গর্ব। কীর্তির মধ্যে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। আন্তর্জাতিক স্তরের অভিনেতা। লন্ডন থেকেও ব্রিটিশ চলচিত্রযোদ্ধা গভীর শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। বিশ্বনাগরিক, কৃতী ভারতীয়, বরেণ্য বাঙালি। আপাতমস্তক বাঙালিয়ানায় মোড়া মানুষটি বঙ্গ সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি হয়ে বিরাজ করেছেন, থাকবেন। শুধু সিনেমা তারকা ছিলেন না তিনি, সংস্কৃতির প্রায় সব ক্ষেত্রেই হাত রেখেছেন এবং ছাপ রেখেছেন। ১৯৫৯–‌এ ‘‌অপুর সংসার।’‌ মাত্র ২৪ বছর বয়সে যে–‌যাত্রা শুরু, তা হয়ে থেকেছে দীর্ঘ জয়যাত্রা। সত্যজিৎ রায়ের ১৪টি ছবির অভিনেতা তিনি। স্বয়ং সত্যজিৎ বলে গেছেন, সৌমিত্রের ওপর একশো শতাংশ ভরসা করতেন, নিশ্চিন্ত থাকতেন। শুধু সত্যজিৎ নয়, মৃণাল সেন, তপন সিংহ, তরুণ মজুমদার, অজয় কর, সরোজ দে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে তঁাকেই ভেবেছেন, অন্য কাউকে নয়। বাঙালির কাছে তিনি অপু, অমল, নরসিংহ, ক্ষিদ্দা, ফেলুদা। চরিত্রগুলোয় প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। শুধু সিনেমা নয়। নাটকের বিশাল ব্যক্তিত্ব। এত ব্যস্ততার মধ্যেও বহু নাটকে পরিচালনা ও অভিনয় করেছেন। কবি, নাট্যকার, সম্পাদক, চিত্রশিল্পী হিসেবেও অদম্য। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি সৌমিত্র–‌কন্যার সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, রাজ্য সরকার যোগ্য সম্মান দেয়নি। বাস্তব?‌ মুখ্যমন্ত্রী চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন, প্রতিদিন পৌলোমীর সঙ্গে কথা বলেছেন, গান স্যালুট। শেষযাত্রায় আগাগোড়া হঁাটলেন মুখ্যমন্ত্রী। আমরা আহত কংগ্রেস নেতার মন্তব্যে। সৌমিত্র সব বাঙালির গর্ব হিসেবে থাকবেন। যে–‌আবেগ দেখা গেল, তা–‌ও ইতিহাসে লেখা থাকবে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top