পশুখাদ্য মামলায় (‌দেওঘর ট্রেজারি)‌ কারাদণ্ড হচ্ছে লালুপ্রসাদ যাদবের। কত বছর জেল, ঘোষণা হবে ৩ জানুয়ারি। বিজেপি–‌র পক্ষে দু–‌তিনজন নেতা খুশি–‌ভরা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। কিন্তু দল ঝাঁপিয়ে পড়েনি। অমিত শাহ বা সুশীল মোদি (‌বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী)‌ কোনও আলাদা বিবৃতি দেননি, সাংবাদিক সম্মেলন দূরের কথা। টুজি মামলায় ইউপিএ সরকারের মন্ত্রী এ রাজার রেহাই, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কলঙ্কমুক্তি নিয়ে সোচ্চার কংগ্রেস। কার্যত ২০১৯ লোকসভা ভোটের প্রচারই যেন শুরু হয়ে গেছে এই সূত্রে। স্বয়ং মনমোহন বিবৃতি দিয়েছেন। রায় ঘোষণার পরই, সারাদিন ধরে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বলে গেছেন, মিথ্যার ভিত্তিতে ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ক্ষমা চাইতে হবে!‌ তুলনামূলকভাবে অমিত শাহদের উল্লাস কম কেন লালুর কারাদণ্ডে?‌ উত্তর পেতে হলে, তাকাতে হবে ওই নেতার দিকেই। যাঁর নাম লালুপ্রসাদ যাদব। গত বিধানসভা ভোটেও দেখা গেছে, এখনও বিহারে সবচেয়ে শক্তিশালী আরজেডি–‌ই। সবচেয়ে বেশি আসন, ৮০। সমর্থকদের বক্তব্য সম্ভবত এই রকম:‌ লালুজি কিছু দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত যদি বা থাকেন, তার চেয়ে অনেক বড় কথা, তিনি গরিব মানুষের জন্য, সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে–‌থাকা মানুষের জন্য অনেক কিছু করেছেন। সামাজিক ন্যায়কে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়ে গেছেন। আগেও অনেকবার জেলে গেছেন লালু। মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়েছে, ভোটে দাঁড়ানোর অধিকার হারিয়েছেন, তবু জনপ্রিয়তা কমেনি। ২০১৯ লোকসভা ভোটের সময়ে যদি কারাবাসেও থাকেন, ফলাফলকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা থাকবে তাঁর। প্রতিনিধি তেজস্বী যাদব। প্রিয় নেতাকে কোণঠাসা করা হচ্ছে, কারণ তিনি পিছিয়ে–‌থাকা মানুষের প্রতিনিধি, এই প্রচার প্রতিষ্ঠিত। এই কোণঠাসা লালু প্রবল শক্তিশালী, বিজেপি নেতারা জানেন। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top