এ সময়ের বাল্য, কৈশোরকে কাঠগড়ায় তোলাটা একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা আত্মকেন্দ্রিক, তারা স্বার্থপর, তারা উচ্ছৃঙ্খল, নেশা–ভাং করাতেই তাদের আনন্দ, তারা হিংস্র। তারা বন্ধুত্বে বিশ্বাস করে না। পত্রপত্রিকা, টিভির আলোচনায় পণ্ডিত, মনোবিদ, সমাজতাত্ত্বিকরা এই বিষয়ে দেন জ্ঞানগর্ভ ভাষণ। বলেন, অতীত এরকম ছিল না। তখন আকাশ ছিল বেশি নীল, গাছপালা ছিল বেশি সবুজ, ছেলেপিলেরা ছিল অনেক ভাল। এই প্রজন্ম গেছে উচ্ছন্নে। বলেন, এখনকার বাবা–‌মায়েরাই ছেলেমেয়েকে নষ্ট করছে। হাতে টাকাপয়সা তুলে দিচ্ছে তারাই। সেই টাকাই দেদার খরচ করছে অপরিণত মস্তিষ্ক। আসলে একটা‌ কোনও ঘটনা ঘটলেই সবাই হইচই করে ওঠে। ছি ছি, আজকালকার ছেলেমেয়েরা তো গোল্লায় গেছে। দশ–‌বিশ জন মন্দ ছেলেমেয়ে কোনও অপরাধ ঘটালে তাকে সামগ্রিক ভাবে দেখা হয়। ‘‌বড় মানুষ’‌ অনায়াসে টেনে আনেন গোটা প্রজন্মকে। শুরু হয়ে যায় বিচার। নিন্দা আর উপদেশের বন্যা বয়ে যায়। কয়েকজনের জন্য সবাইকে যে কাঠগড়ায় তুলতে নেই, সে কথা কারও মনে থাকে না। এত ‘‌বড়’‌ কথা বলতে, লিখতে তারা ব্যস্ত থাকেন যে মনে থাকে না এই অভিযোগ ছোট ছোট মাথায় কত বড় আঘাত করে। ‘‌বড়’–দের এই অন্যায় ভূমিকার মুখের মতো জবাব দিয়েছে দত্তপুকুর মহেশ বিদ্যাপীঠের ছোট ছেলেরা। তারা সরস্বতী পুজোর খরচ কমিয়ে দাঁড়িয়েছে ক্যান্সার আক্রান্ত এক সহপাঠীর পাশে। সব আড়ম্বর বন্ধ করেছে ছাত্ররাই। পাশে পেয়েছে গোটা স্কুলকেও। এক লক্ষ টাকা তারা তুলে দিয়েছে ইতিমধ্যেই। শাবাশ এই প্রজন্ম। তোমরা সবার গর্ব। যারা নতুন প্রজন্মে হতাশ, ব্যথিত,‌ ক্ষুব্ধ তারা কী বলবেন?‌

জনপ্রিয়

Back To Top