বিদ্যার্থী পরিষদ আরএসএস–‌এর শাখা সংগঠন। এই ছাত্র সংগঠন নিয়ে গর্বিত আরএসএস নেতারা। সদস্যরা নাকি আদর্শ বিদ্যার্থী, ভবিষ্যতের আদর্শ মানুষ। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ঘটনা এ বিষয়ে আমাদের ‘‌আলোকিত’‌ করেছে। বারাণসীতে এক অধ্যাপক ক্লাসে এক ছাত্রকে সামান্য বকুনি দিয়েছিলেন। বলেন, পড়াশোনায় আরও মন না দিলে ভাল ফল করা কঠিন। ছাত্রটি বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্য। তিনি তাঁর নেতাদের কাছে অভিযোগ করেন, অধ্যাপক অপমান করেছেন, বিহিত করতে হবে। আদর্শ বিদ্যার্থী নেতারা শিক্ষকের কলার ধরে শাসান। তারপর নাকখত দিতে বাধ্য করেন। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নিবন্ধ লিখেছেন পত্রিকায়। ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের পক্ষে জোরালো কলম ধরেছেন। এই ‘‌অপরাধে’‌ তাঁকে রাস্তায় ধরে জঘন্য গালিগালাজ করেছেন আদর্শ বিদ্যার্থীরা। মন্দসৌরের সাম্প্রতিক ঘটনা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাসরুমের সামনে তারস্বরে স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল— ‘‌জয় শ্রীরাম!‌ ভারতমাতা কি জয়!‌’‌ অধ্যাপক বিদ্যার্থী কর্মীদের বিনীতভাবে বলেন, পড়াতে অসুবিধে হচ্ছে, ক্লাসরুম থেকে দূরে স্লোগান দেওয়াই তো ভাল। অপরাধ!‌ আদর্শ বিদ্যার্থীরা নিগ্রহ শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত ওই ছাত্রদের পা ধরে ক্ষমা চাইতে হয় শিক্ষককে। জেএনইউ–‌এ শোচনীয় পরাজয় ঘটলেও, দক্ষিণপন্থী ঘাঁটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটির মধ্যে ৩টি পদে জিতেছে বিদ্যার্থী পরিষদ। বিরোধীদের দাবি, মারাত্মক কারচুপি হয়েছে। শুধু তা–‌ই নয়, সভাপতি পদে জয়ী প্রার্থী কলেজের পরীক্ষায় মার্কশিট জাল করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতাই নেই। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিলেন, এই নামে কেউ কখনও তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করে বেরোননি। মার্কশিট অবশ্যই জাল। গুণী বিদ্যার্থীর নাম অঙ্কিব বাসোয়া। এঁদের নিয়েই গর্বিত সঙ্ঘ পরিবার। আদর্শই বটে!‌ ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top