শিলিগুড়িতে সাংবাদিক বৈঠকে মহামান্য রাজ্যপাল মহোদয় বলেছেন, ‘‌আমি সক্রিয় থাকব, অতি–‌সক্রিয় নয়। সক্রিয় না হলে তো নিষ্ক্রিয় হয়ে যাব।’‌ আমরা বুঝতে চাইছি, ‘‌সক্রিয়’‌ মানে কী। রাজভবনে আসার পর থেকেই দেখছি, তিনি অতি–‌সক্রিয়। কেউ তাঁর কাছে গেলেই স্মারকলিপি দিলেই কিছু বলছেন, সরকারকে একটা চিঠি দিচ্ছেন। জবাব চাইছেন। নির্দিষ্ট ‘‌কাজ’‌ নিয়ে এসেছেন, পরিষ্কার। যাদবপুরে তা আরও বোঝা গেল। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী তিনবার বারণ করা সত্ত্বেও গেলেন ক্যাম্পাসে। মন্ত্রী ‘‌উদ্ধারের’‌ জন্য। বলছেন, আচার্য হিসেবে কর্তব্য। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন। ওঁরা তাঁকে যেভাবে সম্মান দেখিয়েছেন, তিনি আপ্লুত!‌ রাজ্যপাল গেলেন। ছাত্ররা আটকাননি। বেরনোর সময়ও কেউ আটকাতেন না। তিনি ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন, এমন কিছু তো দেখিনি, শুনিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে গাড়িতে তোলার পর, আটকানো হয়েছে। বেরোতে পারেননি। পুলিশ গিয়ে ‘‌উদ্ধার’‌ করেছে। পুলিশ–‌প্রশাসন–‌সরকার সক্রিয় না হলে, সম্ভব হত?‌ শিলিগুড়িতে সাংবাদিক সম্মেলনে জানালেন, তিনি সব জেলায় যাবেন। বৈঠক করবেন। কে যাবেন, কতজন, পরের কথা। মুখ্যমন্ত্রী তো গত কয়েক বছরে তিন শতাধিক প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন। নিয়মিত করছেন। রাজ্যপাল কীসের বৈঠক করবেন?‌ পাল্টা?‌ অভিসন্ধি?‌ প্রথম বিজেপি–‌প্রধান সরকার রাজভবনে পাঠিয়েছিল প্রাক্তন বিজেপি নেতা বীরেন শাহকে। তিনিও দু–‌একটি বৈঠক করেন, আরও করতে গেলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু তীব্র প্রতিবাদ করে আটকে দেন। তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি (‌মহামান্য রাজ্যপাল লক্ষ্য করুন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, দলের মহাসচিব হিসেবে বিবৃতি)‌ বলেছেন, রাজ্যপাল নিরপেক্ষ নন, কয়েক দিনেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। যাদবপুরে গেছেন, কত জায়গায় চলে যাচ্ছেন, এনআরসি আতঙ্কে যাঁরা প্রাণ হারাচ্ছেন, তাঁদের পরিজনের কাছে যাচ্ছেন না কেন?‌ .‌.‌.‌ ‌যাবেন না। ঠিক করে ফেলেছেন, দলীয় স্বার্থে ‘‌অতি–‌সক্রিয়’‌ হবেনই।   ‌

জনপ্রিয়

Back To Top