উপাচার্যের কাজ কতটা কঠিন, বাইরে থেকে বোঝা মুশকিল। ছাত্র, শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী, লেখাপড়ার যাবতীয় দিক তাঁকে সামলাতে হয়। কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্তা সহায়তায় থাকেন, তবু মূল দায়িত্বটা উপাচার্যের। সম্মান যতটা, দায়িত্ব অবশ্যই তার চেয়ে অনেক বেশি। আপাতত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে কথা বলা যাক। ১৯ সেপ্টেম্বরে ঘটনার সূত্রে সেদিনই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন অসুস্থ উপাচার্য (‌এবং সহ–‌উপাচার্য)‌। ড্যামেজ কন্ট্রোল–‌এর জন্য ২১ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে গিয়ে কথা বলেছেন মাননীয় রাজ্যপাল। সেদিন যা করার ছিল উপাচার্যের, যথাসাধ্য করেছেন। একদিকে উত্তেজিত ছাত্রছাত্রী, অন্যদিকে প্রায় অনমনীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সামলাতে উপাচার্য কথা বলেছেন। আটকে–‌থাকা মন্ত্রীকে অনুষ্ঠানের হলে নিয়ে গেছেন। কিছুটা সময় দাঁড়িয়ে থেকেছেন, যাতে কোনও সমস্যা না হয়। রাজ্যের প্রবীণ মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি বলেছেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে পুলিশকে ডাকা উচিত ছিল। কথাটা এক কথায় উড়িয়ে দেওয়ার নয়। যদি চরম অপ্রীতিকর কিছু ঘটে যেত?‌ চিন্তাটা অমূলক নয়। এদিকে, রাজ্যে বহুকালের প্রথা, উপাচার্য না ডাকলে পুলিশ ঢুকবে না ক্যাম্পাসে। প্রাক্তন উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তী ডেকেছিলেন, তাই পুলিশ গিয়েছিল। এবং উত্তেজনা চরম জায়গায় পৌঁছয়। ‘‌হোক কলরব’‌। সুরঞ্জন দাসের স্পষ্ট অবস্থান, কিছুতেই পুলিশ ডাকব না। আচার্য তথা রাজ্যপাল তাঁকে বললেন, ডাকুন পুলিশ। সুরঞ্জনবাবু ‘‌না’‌ বললেন। প্রয়োজনে ইস্তফা দেবেন, তবু ‘‌না’‌।‌ রাজ্যপাল নাকি বলেন, ইস্তফা দিতে হবে না, সরিয়ে দেবেন। সুরঞ্জন দাস ভারতবিখ্যাত ইতিহাসবিদ। শিক্ষা, গবেষণায় তাঁর অবদান স্বীকৃত। ছাত্রবন্ধু হওয়া সত্ত্বেও ছাত্রদের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে জঘন্য পোস্টার দিয়েছিলেন। ব্যথিত হলেও কটূ মন্তব্য করেননি। মাননীয় রাজ্যপাল পদাধিকার বলে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। সরাতে পারেন না বা বিকল্প বাছাই করতে পারেন না। কিছু যদি সম্ভবও হত, সুরঞ্জন দাসের মতো পণ্ডিত ও উপাচার্য দিতে পারতেন যাদবপুরকে?

জনপ্রিয়

Back To Top