প্রয়াত হলেন অদম্য তুষার কাঞ্জিলাল। বামপন্থী ভাবধারায় বিশ্বাসী। ছিলেন সংগ্রামে, চাইলে পারতেন, রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেতেন। সবে তিরিশ পেরিয়েছেন, সুন্দরবনে গেলেন প্রধান শিক্ষক হিসেবে। আর পাঁচজন কী করেন?‌ ভাবেন, কবে কলকাতায় ফিরে আসা সম্ভব। তিনি ব্যতিক্রমী। গুণী শিক্ষক, তাঁর ক্লাস করার সময়ে কোনও শিক্ষার্থী অমনোযোগী থাকত না। কিন্তু, তিনি শুধু ক্লাসরুমে আটকে থাকার মানুষ ছিলেন না। পড়াতেন, প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন, পাশাপাশি ভালবেসে ফেললেন অবহেলিত সুন্দরবনকে। পড়ুয়াদের মহৎ আদর্শে দীক্ষিত করাটা শুধু কথার মধ্যে আটকে থাকল না। সরাসরি হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ালেন, হাতে সেবার প্রদীপ নিয়ে। কী করে উপেক্ষিত সুন্দরবনবাসীকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, উপার্জনের পথ দেখানো যায়, শিক্ষার ক্ষেত্রে বেশি করে টেনে আনা যায়, ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। শুধু একটা স্কুলের নয়, তিন বছরের মধ্যে হয়ে উঠলেন ‘‌সুন্দরবনের মাস্টারমশাই’‌, যিনি পড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেন না, বিশাল এলাকা জুড়ে প্রবাহিত করলেন মানবদরদি কাজ। যা অনুপ্রাণিত করল অনেককে। সর্বার্থে আদর্শ মাস্টারমশাই। কলকাতায় এসে স্বস্তি–‌সুখের জীবন কাটাতে পারতেন। না। সুন্দরবনের ভালর জন্য প্রশাসনের যাঁরা উপকারী, তাঁদের সাহায্য করলেন। পরের দিকে, যা দেখেছেন আজকের স্বরাষ্ট্র সচিব 
আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘‌টেগোর সোসাইটি’‌র কাজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। সুন্দরবনবাসীর দুর্গতির মর্মস্পর্শী কথা লিখে গেছেন অজস্র রচনায়। তাঁর গ্রামের ডায়েরি তত্ত্বনির্ভর থাকেনি, যদিও তত্ত্বগতভাবে সমৃদ্ধ ছিলেন। অবশিষ্ট বঙ্গবাসী যাতে অনুভব করতে পারেন সুন্দরবনের যন্ত্রণা‌, অক্লান্ত থেকেছেন। তুষার কাঞ্জিলাল, প্রণাম।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top