মামলার রায় কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার পক্ষে গেলে আনন্দ, ‌ বিপক্ষে গেলে দুঃখ, স্বাভাবিক। কিন্তু যদি এটা হত যে, রায় পক্ষে গেলেই মানবেন, না হলে মানবেন না?‌ বিজেপি এমনই একটি দল, আরএসএস এমনই একটি সংগঠন। শবরীমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সি মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে স্পষ্ট রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিজেপি–র অসন্তোষ থাকতে পারে। কিন্তু শাসক দলের সভাপতি অমিত শাহ যখন বলেন যে, রায় না–মানা লোকেদের সঙ্গে দল আছে, ভাবতে হয় না, আমরা কী রকম গণতন্ত্রে আছি?‌ অযোধ্যা মামলা চলছে সর্বোচ্চ আদালতে। বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবার চাইছিল, যাতে মামলার দ্রুত শুনানি শেষ করে রায় দেয় সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলে দিলেন, অবিলম্বে শুনানি হবে না, নতুন বেঞ্চ মামলা শুনবে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চে। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল মোহন ভাগবত–অমিত শাহদের। শবরীমালা নিয়ে শাহ বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের এমন রায়ই দেওয়া উচিত যা রূপায়ণ করা সম্ভব। অযোধ্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে হতাশ ও ক্ষুব্ধ গেরুয়া নেতারা যা খুশি তা–ই বলতে শুরু করলেন। কারও দাবি, সরকার অর্ডিন্যান্স জারি করে রাম মন্দির নির্মাণ শুরু করুক। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বললেন, হিন্দুদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। এরপর অপ্রীতিকর কাণ্ড ঘটতে পারে!‌ এত তাড়াহুড়ো, কারণ রাম মন্দির নির্মাণ শুরু করে ফের উগ্র সাম্প্রদায়িক হাওয়া তুলতে চায় বিজেপি, সামনে যে নির্বাচন!‌ সব ক্ষেত্রে ব্যর্থতা সাম্প্রদায়িকতা দিয়ে ঢাকার চেষ্টা। এবং ভয়ঙ্কর কথা, ওঁরা আদালতের রায় তবেই মানবেন যদি তা ওঁদের পক্ষে যায়। গণতন্ত্র?‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top