জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স–‌এ ভারতীয়দের জন্য বধ্যভূমি তৈরি করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতে ঘূর্ণি পিচে ধরাশায়ী হওয়ার বদলা নিতে এমন সবুজ পিচ, যেখানে বল শুধু জোরে ছুটবে না, যখন–তখন এলোমেলো লাফাবে, এদিক–‌ওদিক অতিরিক্ত বাঁক নেবে। শুধু দুটো কথা মনে রাখা হয়নি। এক, ভারতের বিরাট কোহলি নামে একজন ব্যাটসম্যান আছেন, যিনি এই পিচেও দুই ইনিংসেই চমৎকার খেলে যেতে পারেন। আছেন অজিঙ্ক রাহানে ও চেতেশ্বর পুজারা, যাঁরা যথাক্রমে ৪৮ ও ৫০ রানের নিখুঁত ইনিংস খেলে দিতে পারেন। আছেন ভুবনেশ্বর কুমার নামে এক পেস বোলার, যিনি জঘন্য পিচেও লড়ে গিয়ে ৩০ ও ৩৩ করে যেতে পারেন। আর, মনে রাখেননি, এমন পিচে মারাত্মক হয়ে ওঠার মতো একঝাঁক জোরে বোলার পেয়ে গেছে ভারত। ভারতীয়রা অদ্ভুত পিচে হাতে বুকে পেটে আঘাত পেয়েছেন। তবু লড়ে গেছেন। আর তৃতীয় দিনের শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার ডিন এলগারের হেলমেটে যে–‌ই বল লাগল, ব্যাটসম্যান মাঠ ছেড়ে গেলেন, ওঁদের আবদারে খেলা সেদিনের মতো বন্ধ করে দিলেন দুই আম্পায়ার। টেলিভিশনে ভাষ্যকার সুনীল গাভাসকার বললেন, এমন অবস্থায় কোনও ভারতীয় মাঠ ছেড়ে পালালে তাঁকে নপুংসক বলা হত!‌ সানি এরকমই। একবার ইংল্যান্ডেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ভারতে সেরা হোটেলে রাখা হয় ইংরেজ ক্রিকেটারদের, আর এখানে ভারতীয়দের থাকার ব্যবস্থা অতি সাধারণ হোটেলে (‌তখন তা–‌ই রাখা হত)‌। আর একবার, ইংল্যান্ডেই কপিলদেবের সংবর্ধনা। সঞ্চালক বললেন, পৃথিবীর সর্বকালের সেরা মিডিয়াম পেসার আলেক বেডসার খুশি হতেন কপিলকে দেখলে, তাঁর কাছাকাছি একজন এসে গেছেন। অনুষ্ঠানেই গাভাসকার বলেন, ‘‌সন্দেহ নেই, পৃথিবীর সর্বকালের সেরা মিডিয়াম পেসার কপিলদেব। সংবর্ধনা দেওয়ার সময় সত্যিটা বলা উচিত।’ সামান্য কারণে অধিনায়ক সৌরভকে শাস্তি দিচ্ছিল আইসিসি। সানি বলেন, সৌরভের দুর্ভাগ্য, ও ভারতের অধিনায়ক। ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার হলে, কিছুই হত না। সতেরো বছর ভারতের হয়ে বুক চিতিয়ে ব্যাট করে গেছেন গাভাসকার। এখনও লড়ছেন, ভারতের হয়ে।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top