প্রয়াত হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নামে পথের নামকরণ করে অবশ্যই ভাল করেছে কলকাতা পুরসভা। ১৯৭৭ থেকে প্রায় চার দশক ম্যান্ডেভিলা গার্ডেন্স–‌এর ‘‌পারিজাত’‌ আবাসনে থাকতেন সুনীল। বহু চিরস্মরণীয় লেখা এই ফ্ল্যাটে বসেই। নামটি হয়েছে ‘‌কথা সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সরণি’‌। বরেণ্য কথাসাহিত্যিক তো বটেই। বাংলা সাহিত্যের পাঠক–‌পাঠিকারা খুশি। সেই পাড়ার অধিবাসীরা?‌ যাঁরা বঙ্গভাষী, তাঁরা গর্বিত হবেন। সুনীল অবশ্য বলতেন, তরুণ প্রজন্মের বাঙালিরা কতটা পড়ছেন তাঁর বা অন্য লেখকদের লেখা, সন্দেহ আছে। একই আবাসনের বাইশ বছর বয়সী তরুণ লিফটে দেখা হলেই বলতেন, ‘‌কাকাবাবু পড়ছি। ভাল লাগে, আরও লিখুন।’‌ সুনীল জিজ্ঞেস করেন, আর কী পড়?‌ আমার বা অন্য সাহিত্যিকের কী লেখা?‌ তোমার মা–‌বাবা কী পড়েন?‌ স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। পাশাপাশি এটাও সত্যি, বহু অনুষ্ঠানে সুনীলকে ঘিরে ধরতেন অসংখ্য মানুষ। সবাই সব লেখা নিশ্চয় পড়েননি, কিন্তু অনেকটা পড়েছেন। সুনীল প্রায় নিয়ম করে বলতেন, ‘‌আর কার লেখা পড়েন?‌ পড়বেন।’‌ পথের নামাকরণ নিয়ে দু–‌একটা কথা বলার আছে। ‘‌কথাসাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সরণি’‌। ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে হলে, এত বড় নাম রাখা উচিত নয়। তাছাড়া, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় শুধু কথাসাহিত্যিক ছিলেন না। বাংলার অগ্রগণ্য কবি। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য লড়াই করেছেন পথে নেমে। শুধু গল্প–‌উপন্যাসের পরিচয়ে তাঁকে বেঁধে রাখা যায় না। মেয়র এবং সংশ্লিষ্ট মেয়র পারিষদকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমাদের প্রস্তাব, নাম হোক— ‘‌সুনীল সরণি’‌, সংক্ষিপ্ত, ব্যবহারযোগ্য।‌

জনপ্রিয়

Back To Top