কোনও সন্দেহ নেই, ২০১৯ লোকসভা ভোটে তামিলনাড়ুতে প্রায় একতরফা সাফল্য পাবে ডিএমকে। জয়ললিতার মৃত্যুর পর এআইএডিএমকে ভেঙেছে, সরকারি অংশটিতেও প্রায় প্রকাশ্য দুই ভাগ। তামিলনাড়ুর বিশেষত্ব, সাধারণত যারা জেতে, তারা একতরফা জেতে। কংগ্রেস আছে, একটু আছে বিজেপি, বাম দলগুলো, ছোট আঞ্চলিক দলও। মূল লড়াই এআইএডিএমকে বনাম ডিএমকে। এবার হাওয়া ডিএমকে–‌র দিকে, যে–‌দলের প্রধান নেতা করুণানিধি–‌পুত্র স্ট্যালিন। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন কয়েক বছর ধরেই। অসুস্থ প্রবীণ করুণানিধির পক্ষে বেশি চাপ নেওয়া সম্ভব ছিল না। করুণার প্রয়াণের পর বোঝা গেল, যোগ্য হাতেই এসেছে দলের নেতৃত্ব। ১৯ জানুয়ারি কলকাতার ব্রিগেড সমাবেশে মমতা ব্যানার্জি বলে দেন, তামিলনাড়ুতে এবার স্ট্যালিনরা সুইপ করবে। হ্যাঁ, করবে। কিন্তু কিছু টুকরো সমস্যাও মেটাতে হচ্ছে। দাদা আলাগিরি বরাবর শত্রু, তাঁকে গোলমাল পাকানোর সুযোগ দিতে নারাজ স্ট্যালিন। সে জন্য কিছু সময় ও মনোযোগ দিতে হচ্ছে। বামপন্থীদের দুটো আসন ছাড়তে চান স্ট্যালিন, কিন্তু দাবি ৪। সামলাতে হচ্ছে। কংগ্রেস বন্ধু দল, তাদের চাহিদাও কম নয়। স্ট্যালিন চান ডিএমকে যেন অন্তত ৩২টা আসন নিয়ে দিল্লি যায়। ব্রিগেড সমাবেশে তরুণ তামিল নেতা বিশেষ দাগ কাটতে পারেননি। তেজস্বী, অখিলেশ, জয়ন্ত, হার্দিক, জিগনেশরা শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন। 
স্ট্যালিন হিন্দি জানেন না। তামিল থেকে বাংলা অনুবাদের জন্য সঙ্গে এনেছিলেন একজনকে। চূড়ান্ত অযোগ্য। স্থানীয় যাঁরা পেছন থেকে সাহায্য করতে চেয়েও বিশেষ পেরে উঠলেন না। বক্তা স্ট্যালিন ব্যর্থ, যিনি তামিলে জনসভায় ঝড় তোলেন। তুলবেন, লোকসভা ভোটে, রাজ্যের ৩৯ কেন্দ্রে। আরও একটা কথা বলে দেওয়া যায়। কলকাতা দেখল এক নেতাকে, যিনি মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। পরের বিধানসভা ভোটেই। হ্যাঁ, নিশ্চিত আগামী মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন।

জনপ্রিয়

Back To Top