শীলা দীক্ষিতের কথা শুনলে হাসি পায়। বিজেপি–‌র সুবিধে হলে হোক, তিনি টানা কটু কথা বলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল সম্পর্কে। ১৫ বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, হঠাৎ কোথাকার এক অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির জন্য শুধু গদিচ্যুত নয়, কার্যত রাজনীতিরই বাইরে চলে যেতে হয়। বললেন, কেন্দ্রের সঙ্গে এত ঝগড়ার কী দরকার?‌ আমার সময় তো কয়েক বছর এনডিএ ক্ষমতায় ছিল, কোনও অসুবিধে হয়নি। আরে, তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী, তাঁর সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির তুলনা?‌ সুপ্রিম কোর্টে কেজরিওয়ালের ঐতিহাসিক জয়ের পরও সুর পাল্টাননি শীলা। ভদ্রমহিলার এক কথা!‌ আপ সরকারের যতরকম ক্ষতি করা যায়, অতন্দ্র থেকেছে মোদির কেন্দ্র। পুলিস হাতে, আপ–‌এর নেতা–‌মন্ত্রীদের ক্রমাগত উত্ত্যক্ত করা হচ্ছে। উপরাজ্যপালকে এবং আমলাদের লেলিয়ে দিয়ে রাজ্য সরকারকে কাজ করতেই দেওয়া হচ্ছে না। সাম্প্রতিক বিতর্ক কেজরিওয়ালের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে। তিনি চেয়েছেন, পরিষেবার সঙ্গে সঙ্গে পরিষেবা–‌সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র নাগরিকদের বাড়িতে পৌঁছে দেবে সরকার। তাতেও বাগড়া দেন উপরাজ্যপাল অনিল বৈজল। আরও কিছু জনমুখী প্রকল্পের পথে দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন কেন্দ্রের অনুগত প্রতিনিধি। সরকারি অফিসারদের বদলি করার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নিরুপায় কেজরিওয়াল বারবার প্রতিবাদ করেছেন, ধর্নায় বসেছেন, কেন্দ্র অনড়। এবার সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট রায়, দিল্লির পুলিস ও আইনশৃঙ্খলা এবং জমির ব্যাপারে রাজ্য সরকারের হাত নেই, সংবিধানের নির্দেশ। কিন্তু অন্য সব ব্যাপারে নির্বাচিত সরকারের সিদ্ধান্ত মানতে উপরাজ্যপাল বাধ্য। সরকার জানাবে, এই পর্যন্ত, উপরাজ্যপালের নাকচ করার বা আটকে রাখার অধিকার নেই। কাজ করতে না–‌দিয়ে ‘‌কাজ করছে না’‌ বলার পথে কাঁটা পড়ল। এই জয় অরবিন্দ ও তাঁর সরকারকে ন্যূনতম অধিকার দিল। আপ নেতারা খুশি। বিজেপি কী করবে?‌ দলের এক মুখপাত্র বললেন, এই রায়ে কিছু পাল্টাবে না, যেমন চলছিল তেমনই চলবে!‌ মানে কী?‌ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করা হবে?‌ হেরেও হুঙ্কার!‌
‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top