কী গ্রীষ্মে কী বসন্তে, নির্বাচন এগিয়ে এলেই প্রকাশিত হয় শারদ চাঞ্চল্য। শারদ স্বভাব। মুলায়মের মতোই, ইনিও আরেকজন, শারদ পাওয়ার, দু–‌তিন দশক কাটিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। একদা মহারাষ্ট্র–‌নায়ক এখন নিজের রাজ্যেও দুর্বল। তাঁর এনসিপি মহারাষ্ট্রের একাংশে জেগে আছে। কিন্তু তিনি মনে মনে এখনও সর্বভারতীয়। সম্প্রতি মুম্বইয়ে জনসভায় ডেকেছিলেন বিরোধী নেতাদের। আমন্ত্রণ পেয়েও মমতা ব্যানার্জি যেতে পারেননি বা বেশি উৎসাহ দেখাননি। পাঠিয়েছিলেন সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীকে। তারপর, দিল্লিতে নিজের বাসভবনে নৈশভোজে ডাকলেন বিরোধী নেতাদের। সেখানেও প্রথম সারির কোনও নেতা যাননি। তৃণমূলও যেতে বলেনি দীনেশ ত্রিবেদী বা অন্য কাউকে। শারদ পাওয়ার হতাশ হয়েছেন কিনা জানি না, আমরা বিস্মিত নই। দুটো স্পষ্ট কারণ চিহ্নিত করা যায়। এক, বিশ্বাসযোগ্যতা। একদা কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন। প্রথমে ছাড়েন ইন্দিরা গান্ধীকে। ইন্দিরা–‌বিরোধী কংগ্রেস যাঁরা গড়েছিলেন, তাঁদের তালিকায় শুরুতেই নাম লেখান পাওয়ার। দুঃসময়ে পাশে থাকার অভ্যেস তাঁর নেই। কখনও ছিল না। যথাসময়ে কংগ্রেসে ফেরেন। একটু গুছিয়ে নেন। সোনিয়াকে ছাড়েন তারপর। ‘‌বিদেশিনী’‌ ইস্যুতে বিজেপি যখন সরব, একই ইস্যুতে তাল মিলিয়ে নতুন দল গড়েন পূর্ণ সাংমা–‌তারিক আনোয়ারদের নিয়ে। কংগ্রেস ২০০৪ সালে ফিরল ক্ষমতায়। বন্ধু দলের নেতা হিসেবে ফের মন্ত্রী। ওই ২০০৪ সালেই তৃতীয় শক্তির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বিজেপি–‌শিবসেনা বিরোধ যখন বাড়ল, প্রয়োজনে রাজ্যে বিজেপি সরকারকে সমর্থন করবেন, ইঙ্গিত দিলেন। কে বিশ্বাস করবে পাওয়ারকে?‌ দুই, শক্তি। এখন যে আবার প্রধান বিরোধী নেতা হিসেবে উঠে আসতে চাইছেন, গুরুত্ব কোথায়?‌ দশটা আসন আনতে পারবেন রাজ্য থেকে?‌ পারলে আনুন কিছু আসন, তারপর দিল্লিতে বসে দর–‌কষাকষি করুন, যদি একটা বড় দপ্তর পাওয়া যায়। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top