হেমন্ত করকরের নাম কে ভুলতে পারেন?‌ ২০০৮ সালের  ২৬ নভেম্বরের মুম্বই হানা যেমন দুঃস্বপ্নে জেগে আছে, থাকবে চিরকাল, তেমনই সাহসী পুলিশ অফিসার করকরের নামও দেশের ইতিহাসে চির–‌উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। সেই করকরে ছিলেন মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলার প্রধান তদন্তকারী। সরাসরি অভিযুক্ত  সাধ্বী প্রজ্ঞাকে জেরাও করেছিলেন তিনি। সাধ্বী প্রজ্ঞা বিশেষ প্রভাবে আপাতত জেলের বাইরে। কিছুদিন আগে বলেছেন, ‘‌করকরে একটা বদমাশ। ওকে অভিশাপ দিয়েছিলাম, কয়েক মাসের মধ্যে তোমার স্ত্রী বিধবা হবে। সেটাই ঘটেছিল।’‌ দেশ তোলপাড়, হেমন্তের স্ত্রী ক্ষুব্ধ। শহিদ পুলিশ অফিসারকে জঘন্যভাবে অপমান করার জন্য প্রজ্ঞাকে গ্রেপ্তারের দাবিও তোলেন। সাড়া দেয়নি ‘‌বীর’‌ মোদি সরকার। তারপর, ক্লান্তিহীন প্রজ্ঞা বলেন, ‘নাথুরাম গডসে বীর ছিলেন, বীর আছেন, বীর থাকবেন। তাঁকে দেশবাসী কখনও ভুলবে না। আমি চিরকাল তাঁকে প্রণাম করে যাব।’‌ গান্ধী–‌হত্যাকারীর আরএসএস–‌যোগ অস্বীকার করতে চায় বিজেপি, যদিও ইতিহাস অন্য কথা বলে। মোদি এখন ‘‌গান্ধী ভক্ত’‌ হতে চাইছেন। বলছেনও সেটা। সুতরাং, প্রতিক্রিয়া:‌ ‘‌ওর (‌প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরের)‌ মুখদর্শন করতে চাই না।’‌ মুখদর্শন করলেন। প্রজ্ঞার উপস্থিতিতেই সাংসদদের সামনে ভাষণ দিলেন। মুখোমুখিও হতে দেখা গেল দু’‌জনকে। আগেই বলেছি, সাধ্বী ক্লান্তিহীন। এবার আশ্চর্য কথা বলেছেন। ‘‌শত্রুরা তুক করেছে, সেজন্যই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মৃত্যু হল দুই শ্রদ্ধেয় বিজেপি মহারথীর। সুষমা স্বরাজ ও অরুণ জেটলি।’‌ ভাগ্যিস ‘‌তুক’ স্পর্শ করতে পারেনি দলের সর্বোচ্চ নেতাদের। বিজেপি কি বলে দিচ্ছে, বাজে কথা বলা বন্ধ করো?‌ না। এরাই বিজেপি–‌র সম্পদ।‌ ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top