শরবীমালা মন্দির নিয়ে বিতর্ক অনেক বছর ধরেই চলছে। আরাধ্য আয়াপ্পা ব্রহ্মচারী, মন্দিরে ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সি মহিলারা ব্রাত্য মন্দিরে, যাতে ভগবান আয়াপ্পার ব্রহ্মচর্য ভঙ্গ না হয়। নানা স্তর পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত মামলা পৌঁছয় সর্বোচ্চ আদালতে। সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্ত রায় দেয়, এই প্রথা চলতে পারে না। সব মহিলাই, ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সি মহিলারাও মন্দিরে পুজো দিতে পারবেন। লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে এই রায় ঐতিহাসিক। সচেতন, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট মাননীয় বিচারপতিদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁরা ভাবেননি, এর পর কী হতে চলেছে। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বলেন, এই রায় মানা সম্ভব নয়। তাহলে মন্দিরের ‘‌পবিত্রতা’‌ নষ্ট হবে। ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সি মহিলাদের ‘‌অপবিত্র’‌ বলা যে সামাজিক অপরাধ, শুনতে নারাজ আয়াপ্পা–‌ভক্তরা। কয়েক দফায় কয়েকজন মহিলা মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করলেন। উগ্র ধর্মীয় গুন্ডারা, হাজারে হাজারে হাজির হয়ে হাঙ্গামা করল, আটকে দিল। কেরল সরকার রায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, ভক্তদের আবেগের কথা বলে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অগ্রাহ্য করা যায় না। সরকার রায়ের পক্ষে থাকতে বদ্ধপরিকর। সুরক্ষার ব্যবস্থা হল, যাতে ইচ্ছুক মহিলারা যেতে পারেন। ভক্ত–‌গুন্ডারা আটকে দিল, মারধরও বাকি থাকল না। ওই গুন্ডাদের পাশে সরাসরি এসে দাঁড়াল বিজেপি। সভাপতি অমিত শাহ উসকে দিয়ে আসেন, রায় অগ্রাহ্য করুন, মন্দিরকে অপবিত্র হতে দেবেন না। বিজেপি পথে নামল দলীয় পতাকা নিয়ে। নতুন বছরের শুরুতে দু’‌জন, বিন্দু ও কনকদুর্গা মন্দিরে প্রবেশ করে পুজো দিলেন। প্রায় গেরিলা পদ্ধতিতে!‌ বিজেপি বন্‌ধ ডাকল, হিংসাত্মক হয়ে সাংবাদিকদেরও আক্রমণ করল। একটা রাজনৈতিক দল, দেশের শাসক দল কী করে সুপ্রিম কোর্টকে অগ্রাহ্য করছে?‌ প্রশ্ন। প্রশ্ন আরও, কেন সেই বন্‌ধকে সমর্থন জানিয়ে পথে নামল কংগ্রেস?‌ রাহুল তো রায়কে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য দেশের দুই গুরুত্বপর্ণ দল।   ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top