টিভি চ্যানেলের অ্যাঙ্কর সংখ্যালঘু, তাঁর মুখ দর্শন করবেন না বলে পণ্ডিত অজয় গৌতম দু’‌হাতে মুখ চাপা দিলেন!‌ সংখ্যালঘু ডেলিভারি বয় খাবার আনলে মুখে‌ তোলা যাবে না, তাই অর্ডার বাতিল করে দিলেন অমিত শুক্লা!‌ এই বিষাক্ত আবহাওয়ায় বাস করছি আমরা, সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেলের প্রাইম টাইমে আলোচনা শুধু হিন্দু–‌মুসলিম নিয়ে, তিন তালাক নিয়ে, নিকা হালালা নিয়ে!‌ এই সব চ্যানেল দেখলে আমাদের সন্তানদের মন বিষিয়ে যেতে বাধ্য। যে দেশের সংবাদমাধ্যম তথ্যভিত্তিক খবর পরিবেশন করে না, সে দেশে ব্যতিক্রমী হয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এন ডি টিভি। সরকারের হানা–‌হামলার ধাক্কা সামলে গরিব মানুষের সমস্যা তুলে ধরে আজ প্রণয় রায় দেশের মুখোজ্জ্বল করেছেন আন্তর্জাতিক আঙিনায়। তাঁর সাহস ছাড়া রবীশ বঞ্চনার বিরুদ্ধে গলা তুলতে পারতেন না। ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়ার জন্য রবীশ, প্রণয় এবং এন ডি টিভি–‌র সমস্ত লড়াকু কর্মীকে অভিনন্দন। ট্রোল, ফেক নিউজ, ইয়োলো জার্নালিজমের যুগে তাঁরা সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর। পুরস্কার জয়ের পর রবীশ তাই বলতে পারেন, ‘‌হিন্দু–‌মুসলিম বিভেদের ফল বেশি ভুগতে হবে সংখ্যাগুরুদের, কারণ মনে বিদ্বেষ পুষে রেখে আপনি সৃষ্টিশীল হতে পারেন না, উন্নতির শিখরেও পৌঁছতে পারেন না।’‌ এই সেই রবীশ, যাঁকে ‘‌দেশদ্রোহী’‌ তকমা দিয়েছিল ট্রোল–‌আর্মি, খুনের হুমকি দিয়েছিল। অকম্পিত রবীশ কিন্তু বলে চলেন প্রান্তিক মানুষের কথা। সাফাইকর্মীর দুর্দশা, ব্যাঙ্ক কর্মীদের বঞ্চনার কথা। বিরোধীদের নয়, শাসক দলকে প্রশ্ন করাই তাঁর সাংবাদিকতার ভিত্তি, কৃষক–‌বেকার–‌পড়ুয়াদের হয়ে লড়াইটা প্রতিদিন প্রাইম টাইমে লড়ছেন রবীশ। কর্পোরেটের বার্ষিক বিজ্ঞাপনী বাজেটকে যেদিন কেন্দ্রীয় সরকারি বাজেট কয়েক কদম পিছনে ফেলল, সেদিন থেকেই ‘‌ভক্তিরসাত্মক’‌ হয়ে উঠল সর্বভারতীয় টেলিভিশন। রবীশকে ম্যাগসাইসাই ভারতের গণতন্ত্র, শাসক দল এবং সাংবাদিকতাকে প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে গেল।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top