দিল্লির নির্ভয়া–‌কাণ্ড দেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। নির্ভয়া তহবিল গঠন করা হয়েছিল। সেই তহবিলে অনেক টাকা পড়ে আছে, ব্যবহার করা হচ্ছে না। সম্প্রতি, গত কয়েক দিনে, ধর্ষণ ও খুনের তিনটি ঘটনা পরপর সামনে এল। উত্তরপ্রদেশে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন। নৃশংস ঘটনা, তবু তোলপাড় হয়নি দেশ। সরকার নিষ্ক্রিয়। রাজস্থানে ধর্ষণ করে খুন করা হল ৬ বছরের শিশুকে। এক্ষেত্রেও, রাজ্য সরকার ব্যবস্থা নিতে দেরি করেছে। হায়দরাবাদের ঘটনা সংবাদমাধ্যমে উঠে এল। আইনত ধর্ষিতার নাম প্রকাশ করা যায় না। বিস্ময়, এক্ষেত্রে খুন–‌হওয়া ধর্ষিতার নাম প্রকাশ করে দিল জাতীয় সংবাদমাধ্যমের বড় অংশ। তোলপাড় দেশ, দিকে দিকে প্রতিবাদ। আরএসএস–‌সমর্থক কিছু লোক সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার করে গেল, অপরাধী তো মুসলিম, বদলা নেওয়া উচিত। ঘটনা, অপরাধী ৪ জন, তাদের নাম প্রকাশও হয়েছে। একজন মুসলিম, তিনজন অ–‌মুসলিম। অপরাধীর ধর্মবিচার করা অন্যায়। হিন্দু না মুসলিম, তাতে কী হল?‌ নেট–‌শয়তানরা নিম্ন রুচির উত্তেজনা ছড়াতে চাইল। হায়দরাবাদ আধুনিক শহর। শহরের কাছেই টোল প্লাজায় স্কুটার রেখে, ক্যাবে চড়ে কিছু দূরে গিয়েছিলেন তরুণী চিকিৎসক, কাজে। চাকা নষ্ট করে দিল দুষ্কৃতীরা, ধর্ষকরা, ৪ খুনি। তারপর ধর্ষণ, পুড়িয়ে খুন। দেশের সব প্রান্তে বিক্ষোভ। জয়া বচ্চন রাজ্যসভায় বললেন, অপরাধীদের পিটিয়ে মারা উচিত। সমালোচনা হচ্ছে, সঙ্গত। কিন্তু জয়া কথাটা বলেছেন কষ্ট ও ক্ষোভ থেকে। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডু স্পষ্ট বললেন, ভয়ঙ্কর ঘটনা, ধিক্কার, আলোচনা হওয়া উচিত সংসদে। মানতে হল। এক্ষেত্রে দুজন পদাধিকারীর মন্তব্য শুনতে আগ্রহী ছিল মানুষ। এক, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী। একটা কথাও বলেননি। বরং, ঘটনার পরদিন সানন্দে গিয়েছেন বিয়েবাড়িতে। দুই, প্রধানমন্ত্রী। তিনি টুইটে সচল, কিন্তু এক্ষেত্রে নিশ্চুপ। মানুষ ক্ষমা করবে?‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top