কোনওদিনই তিনি কুকথায় চ্যাম্পিয়ন ছিলেন না। উত্তেজক বক্তৃতা দিতেন, তবে যা খুশি তাই আজেবাজে ভাষায় বলতেন না। বিজেপি–‌র আগের রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা প্রয়াত তপন শিকদারের হাত ধরে রাজনীতিতে পোক্ত হয়েছেন। তপনবাবু খুব ভাল বক্তা ছিলেন, ভাষায় মার্জিত। দিলীপ ঘোষের কাছে হেরে গেছেন রাহুলবাবু। বিজেপি নেতা হিসেবে দলের কথা বলবেন, অন্য দলের বিরুদ্ধে বলবেন, সমর্থকদের হাততালি কুড়োবেন, ঠিকই আছে। তবে, ভিত্তিহীন বা প্রমাণহীন যথেচ্ছ অভিযোগ করার ক্ষেত্রে এবার হয়ে গেলেন বেপরোয়া। বললেন, রাজ্য নির্বাচন কমিশনার অমরেন্দ্রকুমার সিং বিরোধী নেতাদের সঙ্গে কথা বলার সময় গোপনে টেপ করিয়ে রাখতেন। তাঁর ফোনও তো ট্যাপ করে রাজ্য প্রশাসন, তা বহুবার বলেছেন। আর, তৃণমূল নেতারা নির্বাচন কমিশনারকে খুনের হুমকি দিয়েছেন। অমরেন্দ্র সিংয়ের কাজকর্ম নিয়ে সমালোচনা করার অধিকার বিরোধীদের আছে। ব্যক্তিত্বহীন, সরকারের পেটোয়া ইত্যাদি বিশেষণ প্রয়োগ তো অহরহ ঘটছে। কিন্তু গুরুতর অভিযোগ এভাবে তুলতে পারেন কোনও দায়িত্বশীল নেতা?‌ সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে নির্বাচন কমিশনার বললেন, তাঁর অফিসে কারও কথা কখনও টেপ করা হয় না। তেমন ব্যবস্থা বা ইচ্ছা নেই। তাঁর মোবাইল ফোন ট্যাপ করা হচ্ছে না মোটেই, সুতরাং বিরোধীদের কাছে বা কারও কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করার প্রশ্ন নেই। আর, খুনের হুমকি?‌ অমরেন্দ্র সিং বলছেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা। তৃণমূল বা কোনও দলই তাঁকে হুমকি দেয়নি। হুমকি দিলে, ফল ভুগতে হত। জানতে চাই, প্রকাশ্যে এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হল, কী ব্যবস্থা নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন?‌ রাহুলবাবুকে ছেড়ে দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করলেই হয়ে গেল?‌ কুৎসিত, মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। দল হিসেবে তৃণমূলই বা রাহুলবাবুর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে না কেন?‌ যা খুশি বলে পার পাওয়া যায়, এটা কি তাহলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে?‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top