বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর বসছে রাশিয়ায়। দরজায় কড়া নাড়ছে। অনেকে দুঃখিত, ইতালি এবার নেই।  আমাদের টিম বিশ্বকাপের ধারকাছে নেই, আমরা আছি। ব্রাজিল, জার্মানি, আর্জেন্টিনা— ছড়িয়ে আছি সমর্থনে। এবারই আর্জেন্টিনার মূল আসরে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আমরা অনেকে গভীর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম। নির্ণায়ক ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে  দুশ্চিন্তা কাটিয়ে দেন লিওনেল মেসি। মেসির কাছে বিশ্বকাপ জেতার এটাই শেষ সুযোগ। পারবেন কি?‌ আর তো তিন–‌চার মাসের অপেক্ষা। রোনাল্ডোরও শেষ বিশ্বকাপ। তিনি অবশ্য বলেই দিয়েছেন, পর্তুগালের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা বলতে গেলে নেই। জার্মানি বরাবরই শক্তিশালী দল, ব্যক্তিগত প্রতিভার ওপর নির্ভরশীল নয়। দুই বাংলাতেই প্রবল জনপ্রিয় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। একটা সময় দু–‌ভাগ হয়ে যান বাঙালি। ওদের জার্সি গায়ে খেলা দেখেন অনেকে। এবারের আর্জেন্টিনা দলে মেসির সঙ্গে কয়েকজন উঁচু মানের ফুটবলার আছেন। ডি’‌মারিয়া, আগুয়েরো, হিগুয়াইনরা আসর মাত করতে পারেন কিনা, দেখা যাক। আর, ব্রাজিল। দশকে দশকে এত প্রতিভাবান ফুটবলার এসেছেন, আকর্ষণীয় ফুটবল খেলে হৃদয় জয় করে নিয়েছেন, প্রতিবারই অন্যতম ফেবারিট থাকে ব্রাজিল, পৃথিবী জুড়ে থাকে উত্তাল সমর্থন। গত বিশ্বকাপে আসল ম্যাচটায় মাঠে নামতে পারেননি নেইমার, আগের ম্যাচে গুরুতর আহত হওয়ায়। জার্মানদের কাছে সাত গোল খেয়ে বসে ব্রাজিল। এবার?‌ স্বয়ং পেলে বলেছেন, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। নেইমার সেরা ফর্ম–‌এ, পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিমগুলোয় ফুল ছড়াচ্ছেন অন্তত ছয় ব্রাজিলীয় ফুটবলার, নতুন কোচ টিটে দলকে ফিরিয়ে এনেছেন চেনা আক্রমণাত্মক ছন্দে। কিন্তু, গভীর উৎকণ্ঠা, আদৌ থাকবেন কি নেইমার?‌ বড় চোট পেয়েছেন, হচ্ছে অস্ত্রোপচার। অন্তত আট সপ্তাহ খেলতে পারবেন না। অন্তত। সেরে ওঠা, নিজেকে তৈরি করে নেওয়া কি সম্ভব হবে?‌ যদি না পারেন, শুধু ব্রাজিল নয়, বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরটাই অনেকখানি বিবর্ণ হয়ে যাবে।

জনপ্রিয়

Back To Top