রাহুল গান্ধী নির্বাচনী প্রচারে যা বলছিলেন, তার প্রতিটি শব্দ অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণ না করে দেখছি মোদি সরকারের ঘুম হবে না! রাহুল বলতেন, সুট–‌বুটের সরকার। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সত্যিই ধনীদের কর মকুব করে দিলেন!‌ প্রায় দেড় লক্ষ কোটির ঘাটতি হবে, হোক, ওই টাকাটা তো রিজার্ভ ব্যাঙ্কের হাত মুচড়ে আগেই নেওয়া হয়েছে। সত্যিই কি বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ৩৫ শতাংশ হারে কর দিত? না। নানা ছাড়ের হিসেব কষে গত বছর টিসিএস কর দিয়েছিল ২৬ শতাংশ হারে, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ দিয়েছিল ২৭.‌৯ শতাংশ হারে, হিন্দুস্থান ইউনিলিভার দিয়েছিল ৩০ শতাংশ হারে। এভাবে প্রথম সারির অন্তত কুড়িটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের হিসেব নিলে দেখা যাবে কর্পোরেট কর ২৫ শতাংশে নেমে আসায় তাদের ১৫,০০০ কোটি টাকার লাভ হবে। এবার কি তারা পণ্যের দাম কমাবে? আরও চাকরি দেবে?‌ উৎপাদন বাড়াবে?‌ এই সব ক’টি প্রশ্নের উত্তর, ‘‌না’‌। তার কারণ, আসল সমস্যা বাজারে চাহিদা নেই। মানুষের হাতে কেনার টাকা নেই। বড় শিল্পসংস্থা লাভের টাকা দিয়ে কী করে?‌ তারা ফের লগ্নি করে, ডিভিডেন্ড দেয় আর বাজার থেকে নিজেদের শেয়ার কিনে নেয়। এক্ষেত্রে নতুন করে লগ্নি বন্ধ, কারণ চাহিদা নেই। কিন্তু আয়করে ছাড় না দিয়ে সরকার বড়লোকদের ছাড় দিয়েছে। যাঁরা শেয়ার বাজারে টাকা খাটিয়ে বছরে ২ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা উপার্জন করেন, তাঁদের কর কমে গেল। শেয়ার বাজার লাফিয়ে উঠলে এঁদের লাভ। গরিবের, সাধারণ মানুষের কোনও উপকার হবে না— সেদিকে সরকারের নজরে আছে বলেও মনে হয় না।‌

জনপ্রিয়

Back To Top