দুটো দিকই দেখতে হবে। কাশ্মীরে কুলগামে জঙ্গিদের হাতে খুন হলেন মুর্শিদাবাদের ৫ শ্রমিক। চাষ করেন, মাঝে কিছুটা সময় কাশ্মীরে যান প্রধানত আপেল–‌ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সংস্থার কর্মী হিসেবে। ইসলামের নামে জঙ্গিপনা–‌করা ঘাতকদের কাছে বিবেচ্য নয়, নিহতের ধর্ম পরিচয়। ৫ জনই মুসলিম এবং তাঁদের খুন করল ‘‌ইসলামি’‌ সন্ত্রাসবাদীরা। কাশ্মীরে অর্থনীতির একটা স্তম্ভ অবশ্যই পর্যটন। এমন ঘটনা ঘটতে থাকলে, পর্যটকরা যাবেন?‌ আগস্ট থেকে রাজ্যের পর্যটন বন্ধ, উৎসবের মরশুমেও কেউ যাননি। যা ঘটল কুলগামে, নৃশংস হত্যাকাণ্ড, এরপর কেউ যাওয়ার কথা ভাববেন?‌ পর্যটন ব্যবসা মার–‌খাওয়া মানে বহু কাশ্মীরবাসীর রুজি বন্ধ, অর্থনীতির সঙ্কট। এই ঘাতকরা কাশ্মীরের, কাশ্মীরবাসীর ভাল চায়?‌ না। অন্য রাজ্যের তিন আপেল–‌ব্যবসায়ী, তার সঙ্গে যুক্ত পাঁচজন আগেই নিহত। ৩০ অক্টোবর আরও ৫ জন। অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন, আক্রান্ত হয়ে কোনওরকমে ফিরবেন, আর যাবেন না। আপেল যায় দেশের বিভিন্ন রাজ্যে, পৃথিবীর নানা দেশেও। আপেল নিশ্চয় আরেকটি স্তম্ভ কাশ্মীরের অর্থনীতির। ক্ষতি ব্যবসায়ীদের, ক্ষতি কাশ্মীরবাসীর। এই নির্মম জঙ্গিরা কাশ্মীরকে ভালবাসেন?‌ না। পাশাপাশি, দ্বিতীয় দিকটি বুঝি। প্রায় তিন মাস হয়ে গেল ৩৭০ ধারা বাতিল, রাজ্যকে দু’‌ভাগ করা, মূল স্রোতের বিরোধী নেতাদের বন্দি করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। বলা হল, কাশ্মীর শান্ত তো থাকবেই, বিরাট উন্নয়ন হবে, গোটা দেশ থেকে পর্যটকরা তো যাবেন, যাবেন ফিল্মের প্রযোজকরা, নানা ক্ষেত্রের শিল্পপতিরা, অচ্ছে দিন সামনেই। বাস্তব, কাশ্মীর রুদ্ধ, কাশ্মীরবাসী নজরবন্দি, ক্ষোভ পরিষ্কার। তাঁরা জঙ্গিদের সমর্থন করেন না, কিন্তু কেন্দ্রের অত্যাচারী পদক্ষেপও সমর্থন করেন না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক বোঝাতে, ইওরোপীয় ইউনিয়নের ২৩ সাংসদকে নেমন্ত্রন্ন করে আনল কেন্দ্র। সকলেই চূড়ান্ত দক্ষিণপন্থী। ইয়োরোপীয় ইউনিয়নের আপত্তি, তবু জঙ্গিদের প্ররোচিত করল কেন্দ্র। জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরি বলে দিলেন, বড় ভুল।

জনপ্রিয়

Back To Top